COVID-19

চলুন একটুখানি করোনা ভ্যাক্সিন বানাই!

মনে করুন রাতে আপনি জম্পেশ একটা খাওয়া খেয়ে নাক ডাকিয়ে ঘুমুচ্ছেন।গভীর রাত।চোর এসছে আপনার জানলার পাশে।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাটা আপনার নাক ডাকা গানের সুর শুনছে আর ভাবছে ঠিক কখন আপনার খোলা জানালা দিয়ে সে আপনার ফোন,ঘড়ি সব গায়েব করবে।ঘুম থেকে উঠলেন ভোরে,বান্ধবিকে গুড মর্নিং জানাতেই হবে নইলে চাকরি থাকবেনা।কিন্তু আশপাশটা খুজে দেখলেন ফোন নেই।ঘড়িটাও পাচ্ছেননা।হঠাৎ শুনলেন হাউমাউ করে আপনার আপু কাদছে তার লিপস্টিক নিয়ে গেছে চোরে।এবার আর বুঝতে অসুবিধা হলোনা যে চোর ব্যাটা চ্যুতিয়া বানিয়ে চলে গেছে আপনাকে।

ঠিক একমাস পর আবার এসেছে চোর।কিন্তু এবার আপনার প্রস্তুতি তুঙ্গে। একটা দিনও শান্তিতে ঘুমুতে পারেননি সেদিন থেকে। বান্ধবির চাকরিটা যেতে যেতে বেচে গেছে সেদিন।কসম খেয়েছেন খুব উচিত জবাব দেবেন চোর ব্যাটাকে।এবার অবশ্য আপনি জানেন ব্যাটা কই দিয়ে ঢুকবে ঘরে।ফোন দিয়ে বাড়ির সবাইকে জাগিয়ে রেখেছেন।আপনার চাচা ইয়া বড় এক লাঠি নিয়ে দাড়িয়ে আছে জানালা থেকে একটু দূরে।লক্ষ্য করছে কখন ব্যাটা হাত ঢোকায়।আর আপনিও  অপেক্ষা করছেন কখন বিটকেলটা জানলা গলিয়ে ভেতরে হাতটা ঢোকায়।উদ্দেশ্য খুবই পরিস্কার।যেইনা ব্যাটা হাত ঢোকাবে ওমনি আপনি হাতটা ধরে টেনে রেখে একটা চিল্লাচিল্লি বাধিয়ে দেবেন আর আপনার চাচা এক দৌড় লাগাবে বিটকেলটাকে ধরতে।এরপর???

ধাক্কেটেকে….ধাক্কেটেকে….ধাক্কেটেকে………

ওপরের গল্পটা নিতান্তই মজা করে লিখেছি।কিন্তু এই গল্পটিই যদি আপনি বুঝে থাকেন, ভ্যাক্সিন দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম, তা সে আপনি যে ক্লাসেরই হোন বা যে কোন বিভাগেই পড়ুননা কেন।আপনি ইতিমধ্যে শিখে গেছেন কিভাবে ভ্যাক্সিন বানানো হয় আর কিভাবে এটা কাজ করে।খুবই অবাক হচ্ছেন তাইনা?? বিশ্বাস হচ্ছে না???চলুন আপনার বিশ্বাসের একটা নতুন সংজ্ঞা বানাই…

প্রথমেই শুরু করব প্রধান কালপ্রিটকে নিয়ে যার সংক্রমনে এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরন করেছে প্রায় ২.৫৯ মিলিয়ন আর আক্রান্ত প্রায়  ১১৭ মিলিয়ন। এখন পর্যন্ত গোটা পৃথিবীর অনেকগুল বড় বড় প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিলেও, প্রধানত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাক্সিন কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।প্রতিষ্ঠান ৩ টি হচ্ছে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা , ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্না।সম্প্রতি জন্সন & জন্সন কোম্পানি ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিলেও তাদের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের হার ৬৬ % হওয়ায় আরও গবেষনা চলছে ভ্যাক্সিনটির গুনগত মান বাড়াতে।

আধুনিক ভ্যাক্সিনোলজির জনক জনাব এডওয়ার্ড জেনার সাহেব ১৩ বছর বয়সী একটা ছেলের শরীরে প্রথম ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করেছিলেন সেই ১৭৯৬ সালে।ছেলেটি small pox  ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। জেনার সাহেব করলেন কি,গরুর একধরনের বসন্ত রোগ হয় যাকে আমরা cowpox বলি,তিনি সেই  cowpox ভাইরাসের দেহাংশই ওই ছেলের দেহে ইঞ্জেক্ট করলেন আর সেটারই নামকরন হোল ভ্যাক্সিনেশন তথা ভ্যাক্সিন????মানে???দাড়ান!!!!

আরে ভাই small pox ভাইরাসের কারনেই যেখানে ছেলেটা মরে যাচ্ছে সেখানে আপনি আবার তার শরীরে cowpox ভাইরাস ঢুকিয়ে দিচ্ছেন আবার নাম দিচ্ছেন সেটা ভ্যাক্সিন!!!! ভাই আপনি কি উল্টোপাল্টা কিছু খেয়েছেন???

না ভাই।আমি কিছু খাইনি।এখন পর্যন্ত যতটুকু পড়েছেন তার সবটুকুই সত্য।উপরের প্রশ্নটি যদি সত্যিই আপনার মাথায় আসে তাইলে বুঝব আমার লেখা সার্থক।আপনাকে আমি বোঝাতে পেরেছি।এখন চলুন ব্যপারটাকে একটু ভালোমত বোঝা যাক।তবে এর জন্যে আমাদের একটুকুনি বেসিক লাগবে।আমাদের বুঝতে হবে আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করে।

মনে করুন আপনার পরিবারে আপনিসহ ৩ জন সদস্য।কাল যদি আপনার মত কেউ এসে দাবি করে সে আপনার ভাই,আপনি কি মানবেন??আপনার বাবা-মা কি মানবে??কেউ মানবে না কারণ আপনাদের কাছে প্রমান আছে যে আপনিই তাদের একমাত্র সন্তান। আর  DNA টেস্টের অপশানতো রইলোই।তার মানে আমাদের সবার নিজেদের পরিবারের সদস্যদের চিহ্নিত করার ক্ষমতা রয়েছে।তাহলে বাইরে থেকে অপরিচিত কেউ এলে আমরা খুব সহজেই তাকে চিহ্নিত করতে পারব।এখন আমাদের দেহে যে ৩০,০০০,০০০,০০০,০০০ টি কোষ আছে এরাও কিন্তু একই পরিবারের সদস্য।কি হিসেব করতে পারছেননা তাইনা??? চলুন সহজ করে দেই।সংখ্যাটি হচ্ছে ৩০ ট্রিলিয়ন। এত দানব সংখ্যাবিশিষ্ট  পরিবারের সদস্য কোষগুলোও কিন্তু খুব নিখুঁতভাবে নিজেরা নিজেদের শনাক্ত করতে পারে। এই কাজটি করে থাকে MHC (Major histocompatibility complex) নামে কিছু DNA।এই  DNA গুলো major histocompatibility protein molecules নামে কিছু প্রোটিন তৈরি করে যেগুলো প্রতিটি কোষ প্রাচীরের গায়ে আঠার মত লেগে থাকে।এখন আপনি ভাবুন আপনার দেহের প্রতিটি কোষ প্রাচীরের বাইরে এই MHC প্রটিন প্রহরীর মত সবসময় সজাগ আছে,এখন যদি কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বা যেকোনকিছু আপনার শরীরের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করে তাহলে কি ঘটবে??

ভেবে দেখুন এই বিজাতীয় বস্তুগুলোর গায়ে কিন্তু MHC প্রোটিন নেই অপরদিকে আপনার দেহের প্রতিটি কোষে MHC প্রোটিন রয়েছে।ফলে যেই এই বিজাতীয় বস্তু গুলো আপনার দেহে প্রবেশ করবে অমনি আপনার দেহের কোষগুল নিজেদের সাথে বস্তুগুলোর তুলনা করে দেখবে ওদের কোন MHC প্রোটিন নেই।সেকেন্ডের মদ্ধে বিজাতীয় বস্তুগুলোকে চিহ্নিত করে রেড এলার্ট জারি করবে আমাদের কোষ।আর এই রেড এলার্ট জারি হওয়ার সাথে সাথে ইমিউন সাড়ার অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে হাজির হবে ফ্যাগোসাইটিক ম্যাক্রোফেজ কোষ।এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসবে ভাই ম্যাক্রোফেজ জিনিসটা কি???

ভাই, ম্যাক্রোফেজ হচ্ছে একধরনের শ্বেতরক্তকনিকা,যারা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবানুকে রাক্ষসের মত গিলে খেয়ে ফেলে।আমাদের দেহে ৩ ধরনের শ্বেতরক্তকণিকা আছে- গ্রানুলোসাইট,মণোসাইট আর লিম্ফোসাইট।এই ৩ ধরনের শ্বেতরক্তকণিকারই আবার কয়েকভাগে বিভাজিত হয়। যেমন প্রথমেই আসি মনোসাইটকে নিয়ে।মনোসাইট বিভাজিত হয়ে তৈরি হয় ওই সেই রাক্ষুসে  ম্যাক্রোফেজ।আবার গ্রানুলোসাইট শ্বেতরক্তকনিকাও ৩ ভাগে বিভক্ত,যেমন- নিউট্রফিল,ইউসিনোফিল আর বেসোফিল।এই নিউট্রফিলও কিন্তু ম্যাক্রোফেজের মত ফ্যাগোসাইটোসিস ঘটায়।এবার আসি লিম্ফোসাইটকে নিয়ে।লিম্ফোসাইট ব্যাটাও ২ ভাগে বিভক্ত।একটা B-লিম্ফোসাইট আরেকটা T-লিম্ফোসাইট। এই লিম্ফোসাইট ব্যাটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচাইতে প্রধান বিচারক।এনার ভিত্তিতেই আমাদের অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।একটা হচ্ছে হিউমোরাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-যেটি নির্ধারণ করে B-লিম্ফোসাইট আর দ্বিতীয়টি সেলুলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-যেটি নির্ধারণ করে T-লিম্ফোসাইট।

এখন চলুন ভাইরাসের সাথে একটু আগানো যাক।মনে করুন আপনি মাস্ক ছাড়া বাইরে গেছেন।ফলাফল স্বরূপ আপনার সাহস দেখে রাগান্বিত করোনা ভাইয়েরা আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌছে ২০ মিনিটেই অনেক পিচি-পাচ্চা প্রসব করে ব্লাডস্ট্রিমের মাধ্যমে আপনার কোষে ঢুকে বহাল তবিয়তে বসবাস করছে।এখন হবে কি,যেহেতু আপনার কোষের MHC class 1 প্রোটিন আছে সেহেতু টুপ করে আপনার দেহ কোষ ধরে ফেলবে এটা বিজাতীয় জিনিস বা এন্টিজেন।ফলাফল স্বরূপ রেড এলার্ট জারি হওয়ার প্রেক্ষিতে মুহুর্তের মধ্যে রাক্ষুসে ম্যাক্রোফেজ এসে ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমে এই এন্টিজেন মানে কোরোনা ভাইয়াকে  গিলে ফেলবে।যেহেতু ভাইরাসটি আপনার দেহের সবজায়গায় পৌছেছে তাই ওই ম্যাক্রোফেজকেও নিশ্চয়ই খুব দ্রুত বাকি ম্যাক্রোফেজ কোষগুলোকে জাগাতে হবে যে, সবাই ওঠ,আমাদের রাজ্যে আক্রমণ হয়েছে??

ঠিক এজন্যেই প্রথমে যে ম্যাক্রোফেজটি এন্টিজেন হজম করেছিল সেই হজমকৃত অংশ ম্যাক্রোফেজটির বাইরে যে MHC প্রোটিন আছে তার সাথে সংযুক্ত হবে শুধু এটা জানানোর জন্যে যে,এই বিজাতীয় প্রোটিনধারী এন্টিজেন আমাদের ওপর হামলা করেছে,তোরা সবাই জলদি আয়।

এই সিগনাল পাওয়ার সাথে সাথে হেল্পার T-কোষ ঘটনাস্থলে  উপস্থিত হবে।ও হ্যা বলতে ভুলে গেছি ওইযে T-লিম্ফোসাইট,ওটা  কিন্তু আবার  ২ ভাবে বিভাজিত হয়।একটা হেল্পার T-কোষ(cd4),দ্বিতীয়টা সাইটোটক্সিক T-কোষ(cd8)।

এখন ওই হেল্পার T-কোষ ম্যাক্রোফেজের সাথে যুক্ত হয়ে সক্রিয় হেল্পার T-কোষ তৈরি করবে।এই এক্টিভেটেড হেল্পার T-কোষ প্রধানত ২ টি কাজ করবে।কাজদুটির ওপর ভিত্তি করে অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা সেলুলার ও হিউমোরাল অংশে ভাগ করতে পারি।

সেলুলার প্রতিরক্ষাঃ ওই এক্টিভেটেড হেল্পার T-কোষ,সাইটোটক্সিক T-কোষকে(cd8)সক্রিয় করবে।ফলস্বরূপ cd8, ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত সব কোষ apoptosis প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে ফেলবে।আর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে  cd8 কোষ ভবিষ্যত প্রয়োজনে কিছু স্মৃতি-cd8 কোষ তৈরি করে রাখবে যাতে পরবর্তীতে কোরোনা ভাইয়া আবার হানা দিলে খুব সহজে তাদের ডিটেক্ট করে ধ্বংস করা যায়। 

হিউমোরাল প্রতিরক্ষাঃ এ ক্ষেত্রে ওই এক্টিভেটেড হেল্পার T-কোষ সাইটোকাইনস নামে কিছু হরমোন নিঃস্বরন করে।ফলে B-লিম্ফোসাইট এক্টিভেটেড হয়ে প্লাজমা কোষে পরিনত হয়।এই প্লাজমা কোষই আমাদের মেইন টার্গেট।প্লাজমা কোষ বিভাজিত হয়ে আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত এন্টিবডি তৈরি করে যা পরবর্তীতে নিউট্রোফিলকে সক্রিয় করে কোরোনাকে পূর্ণরূপে ধ্বংস করে।cd8 এর মত B-লিম্ফোসাইটও ভবিষ্যৎ প্রোয়োজনে স্মৃতি B-কোষ তৈরি করে রাখে যাতে,পরবর্তীতে কখনো কোরোনা আক্রমণ করলে এই স্মৃতি B-কোষ বিপুল পরিমানে এন্টিবডি উৎপাদন করতে পারে।এভাবেই আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোরোনাসহ যেকোন ভাইরাসের বিরূদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।

এখন কথা হচ্ছে,আপনাদের সবার মনেই একটা প্রশ্ন এসেছে যে,আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতো স্বয়ং নিজেই এমন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে তাহলে কোরোনাকে ভাগাতে আমাদের ভ্যাক্সিন কেন লাগবে??প্রকৃতিগত ভাবেইতো কোরোনা ধ্বংসের এন্টিবডি আমাদের আছে তাহলে ভ্যাক্সিন নিয়ে এসব আলোচনা কেন?? 

আপনি ঠিক ধরেছেন।কিন্তু একটা ব্যপার আপনাকে বুঝতে হবে।মনে করুন আপনি জন্মের পর থেকে কখনো বাইরে বৃষ্টিতে ভেজেননি,কখনো রোদে দৌড়ে বেড়াননি,ঠান্ডা ঘরের এসি ছেড়ে কখন বাইরের কাঠ ফাটা রোদে কাজ করেননি অপরদিকে আপনি যে রিক্সায় রোজ যাতায়ত করেন সেই রিক্সাচালক রোজ কাঠ ফাটা রোদ মাথায় নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন,এসি কি জীবনে চোখেও দেখেননি।সুতরাং তার প্রতিরক্ষা ব্যবসস্থা আর আপনার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক হবেনা।ঠিক একই কারনে আমাদের দেশের হতদরিদ্র মানুষের কোরোনা হয়না।যুক্তি কিন্তু এটাই যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে তাদের ভ্যাক্সিনেশনের দরকার নেই।কারন আমাদের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শরীর কাজ করে না।সবারি উচিত ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আসা।

এখন চলুন আর না পেচিয়ে আমাদের মুল বিষয়ে যাই।

তাহলে এন্টিজেনের বিরুদ্ধে এন্টিবডির উৎপাদনই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু যেহেতু সবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমান শক্তিশালী নয়,তাই সবার এন্টিবডি উৎপাদনের হারও সমান নয়?? তাই নয় কি??

এখন একটু ভাবেন ওই যে আমাদের দেহে যখন কোরোনা প্রবেশ করেছিল তখনই কিন্তু আপনার cd4 কোষ সক্রিয় হয়ে একদিকে যেমন সাইটোটক্সিক T- কোষ তৈরি করেছিল অপরদিকে এন্টিবডির উৎপাদনও বৃদ্ধি করেছিল।কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে এক্ষেত্রে আপনার এন্টিবডি উৎপাদন হলেও সরাসরি ভাইরাস আক্রমণ করায় আপনার মৃত্যুর সম্ভাবনা ছিল।

এখন এই কোরোনা ভাইরাসের অংশবিশেষই যদি এমন কোন বিশেষ  উপায়ে আপনার দেহে প্রবেশ করানো হয় যাতে আপনার কোন ক্ষতি না হয়ে বরংচ  ইমিউন সাড়া হিসেবে বিপুল পরিমানে এন্টিবডি উৎপাদন করে,তাহলে কেমন হবে???আর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর ফলে আপনার B-সেল এবং হেল্পার T-সেল স্মৃতি কোষ তৈরি করে রাখবে ফলস্বরূপ পরবর্তীতে যখনই কোরোনা আপনার দেহে সংক্রমন ঘটাবে,মুহূর্তের মধ্যে T-সেল,B-সেলকে এক্টিভেট করে একদিক দিয়ে যেমন এন্টিবডির মাধ্যমে হিউমোরাল প্রতিরক্ষা দান করবে অপরদিকে cd8 কোষ ভাইরাস আক্রান্ত কোষ মেরে ফেলে সেলুলার সাড়া প্রদান করবে।

এইবার ওই চোরের গল্পটিকি আপনার মনে আছে।প্রথমবার সে আপনার সবকিছু নিয়ে পালিয়েছিল।কিন্তু পরেরবার আর পারেনি, কারন??? 

কারন আপনি সতর্ক ছিলেন।চোর চুরি করে আপনাকে সতর্ক করে গিয়েছে। এখানে চোর হচ্ছে আমাদের কোরোনা।আর আপনি আর আপনার চাচা হচ্ছেন এন্টিবডি। ব্যাপারটা অনেকটা কাটা দিয়ে কাটা তোলার মত।এডওয়ার্ড জেনার সাহেবও এমনটা করেছিলেন। আপনাদের তখন বিশ্বাস না হলেও এখন হয়তো বিশ্বাস হবে।

এখন আসি কিছু তথ্যগত কথায়,ফাইজার- বায়োএনটেক আর মডার্না কোম্পানি তাদের ভ্যাক্সিনের বেস হিসেবে ব্যবহার করছে কোরোনা ভাইরাসের s-প্রোটিন সৃষ্টিকারী mRNAকে।তাদের উদ্দেশ্য এই ভ্যাক্সিনটি ইনোকুলেট মানে ইঞ্জেক্ট  করার পর এটি আমাদের কোষের সাইটোপ্লাজমে ঢুকে ট্রান্সলেশনের মাধ্যমে আসংখ্য s-প্রোটিন তৈরি করেবে এবং এই বিজাতীয় প্রোটিনগুলো আমাদের কোষ প্রাচীরের বাইরে যুক্ত হবে। ফলস্বরূপ ইমিউন সাড়া হিসেবে হেল্পার T-কোষ TCR প্রোটিনের মাধ্যমে    s -প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে সাইটোকাইনস হরমোনের নিঃসরন ঘটাবে।এতে করে B-কোষ উদ্দীপ্ত হয়ে প্লাজমা কোষ সৃষ্টি করবে।আর প্লাজমা কোষ পরবর্তীতে প্রচুর পরিমানে এন্টিবডি উৎপাদন করে কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণ  প্রতিহত করবে।অপরদিকে কিছু s-প্রোটিন আবার সাইটোটক্সিক T-সেলকে উদ্দীপ্ত করবে ফলে এটি সাইটোটক্সিন নিঃসৃত করে আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে ধ্বংস করবে।প্রসঙ্গত অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিনও একই উপায়ে কোরোনা সংক্রম প্রতিরোধ করে।শুধু পার্থক্য এখানেই যে,তারা তাদের ভাইরাসের বেস হিসেবে শিম্পাঞ্জির ঠান্ডাজনিত রোগের জন্যে দায়ী এডিনো ভাইরাসের ভাইরাল DNA ব্যবহার করে।


অয়ন বালা

প্রথম বর্ষ,জীবপ্রযুক্তি ও জিনপ্রকৌশল বিভাগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

Reference :

1: https://www.raps.org/news-and-articles/news-articles/2020/3/covid-19-vaccine-tracker

2. https://www.immunology.org/public-information/bitesized-immunology/pathogens-and-disease/immune-responses-viruses

3. https://www.google.com/url?sa=t&source=web&rct=j&url=https://en.m.wikipedia.org/wiki/Vaccine&ved=2ahUKEwjmyuS9257vAhWcwTgGHVGSDNEQFjALegQIJhAC&usg=AOvVaw0cPla-ThMCJbbxuD8awoF6

4. https://www.google.com/url?sa=t&source=web&rct=j&url=https://www.who.int/emergencies/diseases/novel-coronavirus-2019/covid-19-vaccines&ved=2ahUKEwj-wJ7a257vAhXgyzgGHQ0dAPMQFjACegQIBxAC&usg=AOvVaw0_5Pbz0IHe35CezIwf3i8N

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button