Lifestyle

অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কি আপনার অস্বস্তির কারণ?

মানুষের শরীরে প্রধান ঘাম গ্রন্থি গুলির উপর রিসেপ্টরগুলির অত্যধিক উত্তেজনার কারণে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াকে হাইপারহাইড্রোসিস বলা হয়।  মানুষের শরীরের জন্য ঘামটা খুব প্রয়োজন। মানুষের শরীরে সঠিক তাপমাত্রা থাকা প্রয়োজন। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে আমাদের মস্তিষ্কে তার প্রভাব বিস্তার করে। আমাদের মস্তিষ্ক যেন অতিমাত্রায় তপ্ত না হয় তাই আমরা ঘামি। গবেষকেরা বলেন তাপমাত্রা ও মস্তিষ্ক জনিত সমস্যা  দুটি খুব স্পর্শকাতর বিষয়। ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি তাপমাত্রা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। মস্তিষ্ক মেটাবলিক এনার্জির প্রায় ২০ শতাংশ অংশ গ্রাস করে, তাই একে ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন। ঘামার ফলে ত্বকের উপরিভাগ ঠান্ডা হয়ে যায়। ঘামার পরে ত্বকের এই শীতলতা মাথায় প্রশান্তি দেয় এবং ঠান্ডা রাখে। আমাদের শরীরের ঘাম গ্রন্থি  এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। ঘাম গ্রন্থির  দুটি অংশ। যথা-

১. অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থি (Apocrine Gland)

২. একক্রাইন গ্রন্থি (Eccrine Gland)

অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থি (Apocrine Gland) শরীরের ঘাম বের করার জন্য দায়ী। ত্বকের উপরিভাগে ঘামটা বাষ্পীভূত করে তাপকে স্থানান্তর করে কমিয়ে দেয়। তাপকে রক্তনালী থেকে সরাসরি পরিবহন করে ত্বকে নিয়ে যায়। এই গ্ল্যান্ডগুলো হাতের তালু, পায়ের তালু ও বগলের নিচে থাকে। আর, এইসব স্থানে ঘেমে যাওয়া হাইপারহাইড্রোসিস নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, স্নায়বিক, মেটাবলিক এবং বিভিন্ন রোগের সংক্রমণের কারণে এমনটি হতে পারে। যারা একটু স্থুল প্রকৃতির তাদের ঘামের প্রবণতা বেশি। এছাড়া তাপমাত্রা, আবেগ এসব হাইপারহাইড্রোসিস এর মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। উষ্ণ আবহাওয়ায় কিছুক্ষণ থাকলে বা কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করলে মানুষের শরীর থেকে ঘাম নির্গত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোন পরিশ্রম ছাড়া হাত বা পায়ের তালুতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ১% মানুষের এই অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা আছে ধারণা করা হয়, হাইপারথ্যালামাসের ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত ঘাম হয়। হাইপার থ্যালামাস মস্তিষ্কের ওই অংশ যেটি শরীরে ঘাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। সামাজিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিকর ঘামের সমস্যা হলো হাতের তালুতে ঘামা। বাংলাদেশের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে অতিরিক্ত ঘামের সাথে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়াও একজন ব্যাক্তিকে সামাজিকভাবে অপদস্থকর অবস্থায় ফেলতে পারে। হাইপারহাইড্রোসিস দু’রকম এর হয়। যেমন-

  • প্রাথমিক হাইপারহাইড্রোসিস
  • মাধ্যমিক বা দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত হাইপারহাইড্রোসিস 

ডায়াবেটিস, কার্ডিয়াক এমারজেন্সি, সংক্রমণ ও হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণে হাইপারহাইড্রোসিস বেশি হয়। এটি কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ যেমন ইনসুলিন এবং অ্যান্টিসাইকোটিক্সের সাথেও যুক্ত। 

লক্ষণ- 

  • অত্যধিক ভারসাম্য যুক্ত ঘাম
  • উভয় হাতে এবং পায়ে ঘাম
  • ছোট জায়গায় ঘাম হওয়া
  • বগলে ঘাম হওয়া
  • পায়ের তলায় বা মুখে ঘাম হওয়া
  • মাঝে মাঝে ঘুমানোর সময় ঘাম হয় না

লক্ষণগুলো দেখা দেয় সাধারণত কৈশোরকালে বা ২৫ বছর বয়সের আগে। 

চিকিৎসা –

হাইপারহাইড্রোসিসের চিকিৎসা এর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে। প্রাথমিক চিকিৎসায় মূলত অ্যান্টিপার্স্পিরেন্ট যুক্ত থাকে যা ১৫-২৫% অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট অনুসরণ করে। যদি প্রয়োজন হয় চিকিৎসক কিছু ইনজেকশন বা নার্ভ সার্জারীর ও শরণাপন্ন হতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে অন্যতম হলো- 

  • আয়োডিন স্টার্চ পরীক্ষা
  • থার্মোরেগুলেটরি ঘাম পরীক্ষা 
  • বুকের এক্স-রে 
  • হিমোগ্লোবিন এ১সি
  • থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা 

এইসব পরীক্ষা – নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর অবস্থা নির্ধারণ করা যায়।


আফিয়া ইমরাদ তাহাসিন

ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি চিটাগং 

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট 

তথ্যসূত্র –

১. https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/hyperhidrosis/symptoms-causes/syc-20367152

২. Thoracoscopic Sympathicotomy for Treatment of Hyperhidrosis https://link.researcher-app.com/EauD – via Researcher.

৩. Management of hyperhidrosis in secondary care https://link.researcher-app.com/qwkL – via Researcher.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button