Environment

প্লাস্টিক বিকল্পে বাংলাদেশের অবদান

প্লাস্টিক দূষণ হ’ল পৃথিবীর পরিবেশে প্লাস্টিকের জিনিস এবং কণার পরিমান বৃদ্ধি;, যা বন্যজীবন, বন্যজীবনের আবাস এবং মানবজীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।  প্লাস্টিক দূষণ সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি শীর্ষ হুমকি হয়ে উঠছে। যে প্লাস্টিকগুলি দূষক হিসাবে কাজ করে সেগুলি আকারের ভিত্তিতে মাইক্রো-, মেসো- বা ম্যাক্রো ধ্বংসাবশেষ রূপে পরিবেশে পাওয়া যায়। প্লাস্টিক সস্তা এবং টেকসই হওয়ায় প্লাস্টিক উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ। তাছাড়াও বেশিরভাগ প্লাস্টিকের রাসায়নিক কাঠামো ক্ষয় হতে কয়েকশত বছর  নিয়ে থাকে এবং ফলস্বরূপ  তারা অনেক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সাথে প্রতিরোধী করে তোলে। একত্রে, এই দুটি কারণই মূলত পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণকে তরান্বিত করছে।

পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে ২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।  এই আইনটি পলিথিনের বিকল্প হিসাবে প্রাকৃতিক ফাইবার সংমিশ্রণ (এনএফসি) উপাদানের গবেষণা ও বিকাশে নতুন গতি যুক্ত করেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান, দীর্ঘ দশ বছরের  প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের অন্যান্য গবেষকদের সহযোগিতায় এনএফসি উপাদানগুলির একটি পরিসীমা তৈরি করেছিলেন। এরপরে, ২০১৮ সালে, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) মোবারক আহমদ খান দ্বারা নির্মিত একটি পাট ভিত্তিক এনএফসি ব্যবহার করে সোনালী ব্যাগের বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পণ্যটির নাম রেখেছিলেন “সোনালী ব্যাগ”, যেটি পাটের সম্মানকে ‘গোল্ডেন ফাইবার’ সম্মতি জানায়।

এটি প্লাস্টিকের মতো দেখতে ও অনুভূত হলেও, আসলে এটি হচ্ছে উদ্ভিদজাত বস্তু।  বিশেষত পলিথিন ব্যাগগুলির সেলুলোজ ভিত্তিক বায়ো-ডিগ্রেডেবল বায়োপ্লাস্টিক বিকল্প। সোনালী ব্যাগে ব্যবহৃত সেলুলোজ উত্তোলন করা হয় পাট থেকে, এটি বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশেরও প্রধান ফসল। এই প্লাস্টিক খাদ্যদ্রবের, গার্মেন্টসের, সাধারণ প্যাকেট ও ব্যাগ হিসেবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ প্লাস্টিক পোড়ালে তা গলে যায় কিন্তু বায়োপ্লাস্টিক পোড়ালে ছাই উৎপন্ন হয় যা পাট উৎপাদনে সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। 

পাট শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাট শিল্পের সাথে জড়িত। বাংলাদেশের পাট শিল্প এখন প্রায় বন্ধের মুখে। এই সোনালি প্রজেক্টের মাধ্যমে অনেক মানুষ পুনরায় তাদের কর্মসংস্থান ফিরে পেতে পারে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক ধাপে রয়েছে। সরকার এই প্রজেক্টের উন্নতির জন্য অনুদান প্রদান করছে। শীঘ্রই দিনে কয়েক টন করে সোনালি ব্যাগ উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা যায়। যা পরবর্তীতে রপ্তানিতে রূপ নিবে এবং দেশীয় সম্পদে পরিণত হবে।


ফারহা আনিকা 

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যসূত্রঃ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button