Biotechnology

কোয়াড্রাপল হেলিক্স ডিএনএ : জিনোমে এক অনুপম গড়ন

তানবীর আহাম্মেদ

যদি আপনাকে বলা হয়, আমাদের ডিএনএ দেখতে কেমন তখন নিশ্চই আপনি বলবেন যে আমাদের ডিএনএ হলো ডাবল স্ট্র্যান্ডেড ডিএনএ অথবা ডাবল হেলিক্স ডিএনএ। হ্যাঁ, আপনার ধারণাটি সঠিক।

তবে যদি বলা হয় আমাদের ডিএনএ কোয়াড্রাপল স্ট্রাকচার ও গঠন করতে পারে তাহলে কি আপনি তা বিশ্বাস করবেন? চলুন প্রমাণ করা যাক যে আমাদের জিনোমে  যে ডিএনএ রয়েছে তা  কোয়াড্রাপল হেলিক্স স্টাকচার ও গঠন করতে পারে।

তাহলে আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে কোয়াড্রাপল হেলিক্স স্ট্রাকচার কি বা বিরল এই ডিএনএ এর  স্ট্রাকচার দেখতে কেমন?  

সাধারনভাবে বলা যায় যে, যখন ডিএনএ এর দুটি স্ট্র্যান্ড প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে সেটাকে ডাবল হেলিক্স স্ট্রাকচার বলা হয়।একইভাবে কোয়াড্রাপল হেলিক্স ডিএনএ এর ক্ষেত্রে, ডিএনএ এর চারটি স্ট্র্যান্ড একত্রে প্যাঁচানো অবস্থায় বিদ্যমান থাকে।সম্প্রতি গবেষকগণ এমন অনন্য গড়ন বিশিষ্ট ডিএনএ এর সন্ধান সরাসরি মানুষের দেহে পেয়েছেন। বিরল এই চার স্ট্র্যান্ড বিশিষ্ট হেলিক্স ডিএনএ কে জি-কোয়াড্রাপলেক্স ডিএনএ নামে অভিহিত করা হয়।

দুর্লভ এই ধরণের ডিএনএ তে গুয়ানিন বা জি বেস এর আধিক্য বেশী বলেই এদেরকে জি-কোয়াড্রাপলেক্স ডিএনএ বলা হয়ে থাকে।আমাদের দেহের ক্রোমোজোমের টেলোমিয়ার অংশে বা শেষ প্রান্তদ্বয়ে এই ধরণের ডিএনএ স্ট্রাকচার দেখা যায়।ইম্পেরিয়াল কলেজ অফ লন্ডন এর গবেষকগণ কিছু প্রোব তৈরী করেন যার সাহায্যে মূলত মানব্দেহে এই চার স্ট্র্যান্ড বিশিষ্ট এমন ডিএনএ এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। বিরল এই ডিএনএ এর গঠন পর্যবেক্ষণ করার জন্য গবেষকগণ যে প্রোব ব্যবহার করেন তার নাম হলো DAOTA-M2 যেটা হলো একটি ফ্লুরেসেন্স অথবা প্রজ্জলিত প্রোব।এই প্রোব ব্যবহার করে কোয়াড্রাপ্লেক্স ডিএনএ এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিলো।

কোয়াড্রাপল হেলিক্স ডিএনএ

আশ্চর্যজনক ভাবে গবেষণায় আরো পাওয়া যায় যে, স্বাভাবিক কোষসমূহ হতে ক্যান্সার কোষসমূহে জি-কোয়াড্রাপলেক্স ডিএনএ এর পরিমাণ বেশী পাওয়া যায়।পোরফাইরিন রিং বিশিষ্ট যৌগসমূহের প্রতি এই ধরণের ডিএনএ এর প্রবল অনুরাগ বা আসক্তি রয়েছে যা এই কমপ্লেক্সগুলোকে কার্যকরী এন্টিক্যান্সার এজেন্ট হিসেবে তৈরী করে।লাইগ্যান্ড বা ক্ষুদ্র প্রোটিন অণুসমূহ খুব সহজেই এই ডিএনএ কম্পলেক্স এর সাথে ইন্টারেক্ট করতে পারে।

ফলে নতুন টুলস ও টেকনোলজি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষগুলোতে এই ধরণের ডিএনএ গুলোকে টার্গেট করে থেরাপির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে বলে গবেষকগণ মনে করেন।


তানবীর আহাম্মেদ

জীন প্রকৌশলী ও জীনপ্রযুক্তি বিভাগ

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি

References:

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button