COVID-19

কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি কি? কেন এটি বহুল প্রচলিত?

কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি

প্লাজমা হলো রক্তরস অর্থাৎ রক্তের হলুদ বা খড় বর্ণের  জলীয় অংশ। এটিতে বিভিন্ন প্রোটিন থাকে এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন থাকে ,যা আমরা এন্টিবডি নামে পরিচিত।  রক্তের ৫৫% এই রক্তরস বা প্লাজমার ৯১-৯২% পানি থাকে। থেরাপি হচ্ছে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।১৯১৮ সালে ফ্লু চলাকালীন সময় থেকে এটির ব্যবহার শুরু হয়। ২০০৯ সালে H1N1 ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যাপক ব্যবহৃত হয় এবং আশাজনক ফলও পাওয়া যায়। বর্তমানের Covid-19 চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কনভালসেন্ট কি??

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি সুস্থ হওয়ার পর অর্থাৎ কোন ব্যাক্তি অসুস্থ ছিলো যে কোন রোগে সে ব্যাক্তি সুস্থ হয়ে উঠলে এই রোগ প্রতিরোধ করার জন্য তার শরীরে প্রয়োজনীয় এন্টিবডি থাকে। তার ওই রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে। রোগ প্রতিরোধ করে যে কোন ব্যাক্তি সুস্থ হলে আমরা ওই রোগীকে কনভালসেন্ট আর তার রক্তকে কনভালসেন্ট রক্ত এবং প্লাজমা কে কনভালসেন্ট প্লাজমা বলি। 

প্লাজমা কি?

রক্তের হালকা হলুদ বর্নের তরল অংশ হচ্ছে প্লাজমা। টেস্টটিউবে রক্ত নিয়ে সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রে মিনিটে ৩০০০ বার করে ৩০ বার ঘুরালে রক্তের দুটি স্তর দেখা যায়। নিচের গাঢ়তর অংশ হচ্ছে রক্তকণিকা  (লোহিত রক্তকণিকা,শ্বেতরক্তক্ণিকা,অণুচক্রিকা) যা ৪৫% থাকে এবং উপরের হালকা হলুদ রঙের অংশই হলো প্লাজমা। রক্তে ৫৫% প্লাজমা থাকে।রক্তরসে এন্টিবডি রয়েছে ।  এন্টিবডি হলো একধরনের প্রোটিন যা এন্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করে। এন্টিজেন বলতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া যা প্যাথোজেনস নামে পরিচিত।  এন্টিবডিগুলো শরীরে কোন ক্ষতিকারক পদার্থ প্রবেশ করলে সেটি কে ধ্বংস করে।

কেন এটি অধিক উপযুক্ত? 

যদি কেউ কখনো কোনো একটি এন্টিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন আমাদের প্রতিরক্ষা তন্ত্রে সেই এন্টিজেনর বিরুদ্ধে কাজ করে এবং শরীর কে রোগ মুক্ত করে। ১ম বার সুস্থ হওয়ার পর ২য় বার যখন ওই এন্টিজেন আক্রমণ করে তখন ওই এন্টিজেন শরীরের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।তখন,শরীরে ওই নির্দিষ্ট এন্টিজেনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট  এন্টিবডি রয়েছে।যা আমাদের ওই এন্টিজেন থেকে রক্ষা করবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। কিন্তু ওই নির্দিষ্ট  এন্টিজেন যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে তার শরীরে ওই এন্টিজেন এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করতে ২০-২৫ দিন সময় লাগতে পারে।যদি কোন সুস্থ ব্যক্তি অথার্ৎ যার শরীরে আগে থেকে পর্যাপ্ত এন্টবডি আছে ওই এন্টিজেন এর বিরুদ্ধে, তার থেকে অসুস্থ ব্যাক্তিটি প্লাজমা নিলে তখন ব্যক্তিটি ৪-৫ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যাবে। এটি একটি নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি কারণ এটিতে কোম ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে।এটির অন্যতম সুবিধা হলো এটির জন্য রক্তের গুপ এক হতে হয়না। রক্তদানের মাধ্যমেও এটি ব্যবহার করা যায়।রক্তের গুপ এক না হয়েও সুষ্ঠভাবে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়।

কিভাবে প্লাজমা দান করা হয়?

  বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্লাজমা দান কেন্দ্র রয়েছে যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় প্লাজমা দিয়ে থাকে।কেউ চাইলে তাদের থেকেও প্লাজমা গ্রহণ করতে পারে অথবা নিকটস্থ কোন আত্বীয় বন্ধু-বান্ধব থেকেও নিতে পারে।

-প্লাজমা দানের ক্ষেত্রে কি কি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়??

.Needle –‌ যা ধমনীতে প্রবেশ করে রক্ত সরবরাহ করতে ব্যবহৃত হয়।

.Tubing- রক্ত টেস্টটিউব এর মধ্যেই রাখা হয়।

.Centrifuge bowl- যা রক্তের প্লাজমাফোরেসিস এর মাধ্যমে রক্তকে সেন্ট্রিফিউজ করে। দুটি স্তরে ভাগ করে। একটি প্লাজমা অপরটি রক্তকণিকা।

.Bags-দুটি স্তরে বিভক্ত হওয়ার পর প্লাজমাকে ব্যাগে রাখে আর বাকি রক্তকণিকা সেন্ট্রিফিউজ বোল থেকে সরাসরি রক্তদাতা শরীরে ফিরে যায়।

.Citrate Solution-এটির প্রধান সিরাম খনিজ হোমিওস্ট্যাসিস। রক্তের সিরামে খনিজ পদার্থগুলোর একটি নির্দিষ্ট ঘনমাত্রা হচ্ছে (১০০-১৫০) মাইক্রো মিলি।কিন্তু প্লাজমা দান করার সময় খনিজ পদার্থগুলোর ঘনমাত্রা কমে যেতে পারে যাকে হাইপারসাইট্রিসেমিয়া বলে। যেমন Ca2+ এর স্বাভাবিক পরিমাণ ২.৬ mmol/L হয়।  কিন্তু হাইপারসাইট্রিসেমিয়া এর ফলে ঘনমাত্রা কমে যায় যার ফলে দেহে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই Citrate solution এর মাধ্যমে রক্তে Minerals এর পরিমাণ ঠিক রাখা হয়। 

  • প্লাজমা থেরাপিতে কি রক্তের গ্রুপ এক হওয়া জরুরি?? 

এটি নির্ভর করে প্লাজমা সংগ্রহ করার প্রক্রিয়ার উপর।

এর ২ টি প্রক্রিয়া রয়েছে, যথাঃ

১.Long term process –এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্লাজমা থেকে এন্টিজেন, এন্টিবডি এবং বিভিন্ন পদার্থ গুলো আলাদা করা হয়।অনেক নিখুঁতভাবে প্লাজমা থেকে প্রোটিন এন্টিবডি নির্যাস করা হয় এবং অন্যান্য প্যাথোজেনের Cellular portion আলাদা করা হয়, তাই এই প্লাজমা পদ্ধতি তে ব্লাড গ্রুপ মিলতে হয় না। 

২.Short term process –এটির ক্ষেত্রে কম সময়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র ক্ষতিকর পদার্থগুলো আলাদা করা হয়।  যাতে পরিব্যাপ্তির পর কম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া  দেখা যায়। যেহেতু এখানে এন্টিজেন গুলো ভালো ভাবে নিষ্কাশন হয় না তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই রক্তের গ্রুপ এক হতে হবে।

  • ঝুঁকি : প্লাজমা থেরাপিতে এখনো তেমন কোন ঝুঁকি পরিলক্ষিত হয়নি।  তবে রক্ত সরবারাহের যেসব ঝুঁকি রয়েছে তা এখানেও প্রযোজ্য। যেমন- ফুসফুসের সমস্যা, এলার্জি জাতীয় সমস্যা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সাবধনতা অবলম্বন করা দরকার।

আব্দুল্লাহ আল মামুন

ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি চিটাগং 

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট 

Reference –

1. Platelet-rich plasma therapy for androgenetic alopecia

https://link.researcher-app.com/bcxr- via Researcher (@ResearcherApp)

2. The use of convalescent plasma therapy and remdesivir in the successful management of a critically ill obstetric patient with novel coronavirus 2019 infection: A case report

https://link.researcher-app.com/VAEi – via Researcher (@ResearcherApp)

3. https://www.bbc.com/bengali/news-52687908

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button