Lifestyle

নিজের অজান্তেই কি ফোবিয়া আপনাকে গ্রাস করছে ?

প্রকৃত বিপদের উপস্থিতি ছাড়াই শুধু মাত্র আশাঙকার ভিত্তিতে  কোন বস্তু বা পরিস্থিতির প্রতি অত্যধিক ভয়কে ফোবিয়া বলা হয়। ফোবিয়াকে  একটি স্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী ভয় হিসাবেও গণ্য করা হয়। যা কোনো স্থান বা জিনিসের প্রতিও হতে পারেম ফোবিয়া সাধারণত ভয় রোগ বা ভীতিরোগ হিসাবে পরিচিত। ফোবিয়া হচ্ছে কোনও বস্তু, বিষয় কিংবা কোন ঘটনা বা অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় আতঙ্কিত হওয়া , অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়া বা অহেতুক এড়িয়ে চলাকে বুঝায়। গ্রীক শব্দ Phobos(ফোবোস) থেকে Phobia শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ ভয় বা আতঙ্ক। সর্বপ্রথম ফোবিয়ার কথা জানা যায় প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক  এবং চিকিৎসক হিপোক্রেটিসের ( খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০-৪১০) এক লেখায়। আধুনিক বিশ্বে ১৭৮৬ সালের আগে ফোবিয়া শব্দটির প্রচলন ছিল না। বিশেজ্ঞরা ফোবিয়াকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেন। যেমন- 

  • পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার 
  • অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার 
  • ডায়াগনস্টিক এন্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল ডিসঅর্ডার  ইত্যাদি 

তবে ফোবিয়া সাধারণত তিন প্রকার। যথা-

  • স্পেসিফিক ফোবিয়া
  • সোশ্যাল ফোবিয়া
  • এগারোফোবিয়া

পুরো পৃথিবীতে ৬-৮% ও এশিয়া মহাদেশে ২-৪% মানুষ ফোবিয়ায় আক্রান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে ৭% মানুষ সোশ্যাল ফোবিয়ায় আক্রান্ত।  ১০-১৭ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েরা ফোবিয়াতে বেশি ভোগে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ফোবিয়ার আক্রান্তের হার কমতে থাকে। গুরুতর পরিস্থিতিতে ফোবিয়া থেকে অন্যান্য ডিসঅর্ডার এর সৃষ্টি হয়।

এটি মানুষের দৈনন্দিন কার্যকলাপের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত পশু-পাখি কীটপতঙ্গ, ইনজেকশন ,জনসমক্ষে বক্তব্যপেশ, মানুষের ভীড় ইত্যাদি জিনিসগুলো ভয় পেয়ে থাকে।

ফোবিয়ার কারণ হল- 

অতীতে কোন ভয়ংকর বা খারাপ ঘটনা থাকলে অর্থাৎ উক্ত ঘটনা থেকে কষ্ট পেয়ে থাকলে সে ঘটনা যাতে আবার পুনরাবৃত্তি না হয় তার কারণে ফোবিয়া হয়ে থাকে। জিনগত সমস্যা হলো ফোবিয়ার অন্যতম সমস্যা। মানবদেহে কোন ব্যক্তির যদি কোন জিন ত্রুটিপূর্ণ বা পরিবারের সূত্রে কারো যদি ফোবিয়া থাকে তার ক্ষেত্রেও ফোবিয়া দেখা দেয়। অতিরিক্ত  দুশ্চিন্তার ফলেও ফোবিয়া হয়। এংজাইটি ডিসঅর্ডারের কারণেও ফোবিয়া দেখা দেয়।

লক্ষণ-

ভয় ও উদ্বেগ ফোবিয়ার মূল কারণ । নিম্নলিখিত উপসর্গগুলোও দেখা দেয়-

  • মাথা ঘোরা / মাথা ধরা / মাইগ্রেন
  • হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি 
  • বুকে ব্যথা 
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
  • হজমে সমস্যা 
  • বমিভাব 
  • কাপুঁনি 
  • অবশতা
  • পারিপার্শ্বিক সম্বন্ধে সচেতনতার অভাব
  • জনসমক্ষে কথা বলার ভয়
  • দায়িত্ব নিতে সমস্যা
  • সবকিছু এডিয়ে চলা ইত্যাদি ফোবিয়ার অন্যতম লক্ষণ।

চিকিৎসা – কাউন্সেলিং ও থেরাপি হলো ফোবিয়ার অন্যতম চিকিৎসা। রোগীকে ধাপে ধাপে ভয়ের উৎসের মুখোমুখি হতে হবে এবং সমস্যাটি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন আনতে হবে। প্রয়োজন মতো ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে । একই ফোবিয়ায় আক্রান্ত অন্যান্য মানুষের সাথে গ্রুপ থেরাপি করেও ফোবিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কগনিটিভ বিহেভিয়ারেল থেরাপি, যোগব্যায়াম ও ধ্যান জাতীয় রিল্যাক্সেশন টেকনিক অন্যতম চিকিৎসা। যযথাসম্ভব পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

  • সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ফোবিয়া রয়েছে। যেমন- 

– একাকীত্বের ভয়।

– তীক্ষ্ণ বা ধাঁরালো বস্তুর 

-বমি করার ভয়

– সার্জারী বা অপারেশনের ভয়

-স্নান বা ধোয়া বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে না চাওয়া

 – কোন কিছুতে আঘাত পাবে বলে অবহেলা করা

  • রাস্তা পারাপারের  অস্বস্তি 

– জনসম্মুখে কথা বলতে না চাওয়া

 – অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার 

– খাবারের প্রতি বিরক্তি 

– পোকা – মাকড় এর ভয় ইত্যাদি। 


আফিয়া ইমরাদ তাহাসিন

ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি চিটাগং 

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট। 

তথ্যসূত্র – 

  • Common Phobias among Egyptian Primary Schoolchildren: An Emergency Trigger for Panic Disorder due to Corona Pandemic https://link.researcher-app.com/9uTA – via Researcher (@ResearcherApp)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button