Biotechnology

চামড়ার নিচে ইলেকট্রনিক চাবি!

থাকছে না আর চাবি হারানোর দুশ্চিন্তা। এবার হাতের ইশারায় খুলবে দরজা, স্টার্ট নেবে গাড়ি, এমনকি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিলেই হয়ে যাবে কেনাকাটার মূল্য পরিশোধ! না, এটি কোনো সায়েন্স ফিকশন নয়, প্রযুক্তিটি হলো মাইক্রোচিপ। যাকে এক প্রকার ডিজিটাল চাবি ও বলা চলে।

মাইক্রোচিপটি হলো এক ধরনের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট যা ত্বকের নিচে স্থাপন করা হয় এবং এটি পরোক্ষ Radio Frequency Identification (RFID) টেকনোলজি ব্যবহার করে। একটি মাইক্রোচিপ সাধারণত ১১-১৩ মিলিমিটার লম্বা (প্রায় ০.৫ ইঞ্চি) এবং ২ মিলিমিটার ব্যাস সম্পন্ন হয়।                     

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্টিফেন নরহ্যাম এটি উদ্ভাবন করেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রথমে চামড়ার নিচে মাইক্রোচিপটি স্থাপন করা হয়। সিরিঞ্জ দিয়ে খুব সহজেই হাতের তালুতে বা বুড়ো আঙুলে বসানো যাবে শস্য দানা আকৃতির ইলেকট্রনিক চিপটি। প্রক্রিয়াটি যেমন সহজ তেমনি সময় সাশ্রয়ীও বটে। হাতকে চেতনা-নাশক দিয়ে অবশ করা হয় বিধায় ব্যথাও থাকবে না, অনেকটা নাক-কান ফোটানোর মতোই। 

আশঙ্কা করা হয়, এতে করে কোনো ব্যক্তিকে ট্র্যাক করা যেতে পারে। 

কিন্তু না, এই চিপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন স্টিফেন নরহ্যাম।  কারণ এতে শুধুমাত্র কিছু মৌলিক তথ্য দেয়া থাকবে। যেমন স্বাস্থগত, চিকিৎসা সংক্রান্ত কিংবা ব্যাংকের তথ্য সংশ্লিষ্ট কোনো নম্বর বা ব্যক্তিগত আইডি নম্বর ঠিক যেমনটি ডেবিট- ক্রেডিট কার্ডে থাকে। 

১৯৯৮ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী কেভিন ওয়ারউইক (Kevin Warwick) সর্বপ্রথম মাইক্রোচিপ নিজের হাতে সংযুক্ত করেন। ৯ দিন ব্যবহারের পর তা খুলে ফেলা হয় যা এখনও লন্ডনের বিজ্ঞান জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। 

বর্তমানে সুইডেনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এই ইলেকট্রনিক চিপ হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এটি ব্যবহার করে ইতিবাচক মন্তব্য করার পাশাপাশি তাদের ধারণা, এভাবেই ধীরে ধীরে প্রযুক্তি আমাদের শিরায় শিরায় মিশে যাবে।


আমিনা খাতুন সুইটি

কো-অর্ডিনেটর, ডেইলি সায়েন্স প্রজেক্ট, বায়ো-ডেইলি

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১১০০

তথ্যসূত্রঃ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button