FoodsLifestyle

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স

লেখক: ফারিয়া ইসলাম

প্রায়ই দেখা যায় অনেকে দুধ বা দুধজাতীয় খাবার খেতে পারে না,খেলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।যেমনঃ বমি,বদহজম,এসিডিটি, ডায়রিয়া, পেট ফাপাঁ ইত্যাদি। এই সমস্যাটিকেই ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়।

 ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স কেনো হয়?  

 যখন আমাদের দেহে ক্ষুদ্রান্ত্র  পরিমিত পরিমাণে ল্যাক্টেজ এনজাইম উৎপন্ন করতে পারে না তখন দুধজাতীয় খাবারের শর্করা “ল্যাকটোজ” পরিপাক হয় না। সাধারণত ল্যাকটোজ খাবার গ্রহণ করার পর তা গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজ নামের দুটি সরল শর্করায় পরিণত হয়ে পরিপাক প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

কিন্তু আমাদের দেহে যদি ল্যাক্টেজ এনজাইম ঘাটতি থাকে,তাহলে পরিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে  এবং ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স হয়।   

তিন ধরনের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স দেখা যায়ঃ

১.প্রাইমারি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স:

সাধারণত এই প্রকারই বেশি দেখা যায়।শিশুকালে ল্যাকটেজ পরিমিত পরিমাণে উৎপন্ন হলেও বয়স বাড়লে অন্যান্য খাবার গ্রহণের ফলে ল্যাকটেজ নিঃসরনের পরিমান কমে যায়। এর ফলেই দুধজাতীয় খাবার ডাইজেস্ট করতে সমস্যা হয়।

২. সেকেন্ডারি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স:

 এক্ষেত্রে ক্ষুদ্রান্তজনিত কোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স এর সৃষ্টি হয়। এর ফলে আরও অন্যান্য রোগ ও হতে পারে।যেমন: ইন্টেস্টাইনাল ইনফেকশন, সিলিয়াক ডিজিজ, ব্যাকটেরিয়াল ওভারগ্রোথ,ক্রন ডিজিজ।      

৩:কনজেনিটাল ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স: 

এই রোগটি এতো বেশি দেখা যায় না। এটি জেনেটিকভাবে বংশধরদের মধ্যে দেখা যায়।এক্ষেত্রে ল্যাক্টেজ এর পরিমান খুবই কম থাকে।

কি কি খাবার খেলে ল্যাকটোজ ইন্টলারেনস প্রকাশ পেতে পারে?

গুড়া দুধ,চিজ,দুগ্ধজাতীয় খাবার, ল্যাকটোজ,বাটার, দই, পাউরুটি, বেকড খাবার ইত্যাদি।    

 লক্ষনসমূহ:   

-ডাইরিয়া,বমি,পেট ব্যাথা, এসিডিটি, পেট ফাপা 

ইত্যাদি।  

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নির্ণয়:

বিভিন্ন লক্ষণ ও কিছু খাবার গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া  থেকে ডাক্তাররা এই রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। এছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে যা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স নির্ণয় করতে পারে। যেমন:  

১: হাইড্রোজেন ব্রিদ টেস্ট  

অনেক বেশি পরিমাণে  ল্যাকটোজ আছে এমন খাবার খাওয়ার পর ডাক্তার আমাদের নিঃশ্বাসে হাইড্রোজেনের পরিমাণ পরিমাপ করেন। বেশি পরিমাণে হাইড্রোজেন নির্গত হলে বুঝতে হবে ল্যাকটোজ ঠিকমতো পরিপাক হচ্ছে না। 

২:ল্যাকটোজ টলারেন্স টেস্ট:               

অনেক বেশি পরিমাণে  ল্যাকটোজ আছে এমন খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।যদি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ না বাড়ে, তাহলে বুঝতে হবে ল্যাকটোজ যুক্ত খাবার পরিপাক হচ্ছে না।  

চিকিৎসা:      

*দুধজাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে। তবে দেহের চাহিদা মেটাতে সহনীয় মাত্রায় দুগ্ধজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। 

*ল্যাক্টেজ এনজাইম গ্রহণ করে দুগ্ধজাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে।এতে ল্যাক্টোজ পরিপাক সম্পন্ন হবে।      

 রিস্ক ফ্যাক্টর:

কিছু ফ্যাক্টস আছে যা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স  হওয়ায় ভূমিকা রাখে। যেমন:

-প্রিম্যাচ্যুর বার্থ, ক্ষুদ্রান্ত্রজনিত রোগ,নির্দিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসা, স্বকিয়তা (আফ্রিকান,এশিয়ান,হিস্পানিক ইত্যাদি)।      

তাই কোনো খাবার হজম না হলে বা সমস্যার সৃষ্টি হলে তা এসিডিটি সমস্যা ভেবে সাথে সাথে এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন এবং আসল কারণটি জেনে নিন।


Fariya Islam Sinthi, 

Dept of Biochemistry and Molecular Biology, 

Mawlana Bhashani Science and Technology University, Tangail.           

Reference:          https://www.google.com/url?sa=t&source=web&rct=j&url=https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/lactose-intolerance/symptoms-causes/syc-20374232&ved=2ahUKEwitoMSHgP3rAhWGlEsFHX4aCjwQFjAKegQIAhAB&usg=AOvVaw28lMN5mmI6TS8h8গীঊফফ্লড

https://www.google.com/url?sa=t&source=web&rct=j&url=https://my.clevelandclinic.org/health/diseases/7317-lactose-intolerance&ved=2ahUKEwiw4Lyzov_rAhXJV30KHRHSD1EQFjAFegQIDRAV&usg=AOvVaw2cvr1I6I7JWqfPlZvVNbl7

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button