Medical Science

রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে আমাদের দেহের যুদ্ধ (শেষ পর্ব)

অর্জিত প্রতিরক্ষা দ্বারা শক্তিশালী সাড়া:

বাইরের কোনো অনুজীব (Antigen/অ্যান্টিজেন) যখন সহজাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে দেহে প্রবেশ করে তখন অর্জিত প্রতিরক্ষা (Adaptive Immunity) ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাধারনত কয়েকটি ধাপে কাজ করে। সেগুলো হলো:

১.অ্যান্টিজেন ক্যাপচার (capture) করা এবং তা উপস্থাপন করা (Antigen capture and presentation) 

২.লিম্ফোসাইট দ্বারা অ্যান্টিজেন চিহ্নিত করা (Recognition of antigen by lymphocytes)

৩.কোষ নির্ভর সাড়া (Cell-mediated immunity)

৪.অ্যান্টিবডি নির্ভর সাড়া (Humoral immunity)

৫.ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরি (Immunological memory)

অ্যান্টিজেন ক্যাপচার ও উপস্থাপন

T সেল (T lymphocytes) সরাসরি অ্যান্টিজেনকে চিহ্নিত করতে পারে না। T সেল শুধু পেপটাইড অ্যান্টিজেনকে শনাক্ত করতে পারে যখন সেটি অ্যান্টিজেন প্রেজেন্টিং সেল (Antigen presenting cells; APCs) এর সার্ফেসে (surface) এমএসসি মলিকুলস (Major histocompatibility complex; MHC molecules) এর সাথে যুক্ত থাকে।

বিভিন্ন রকমের APCs রয়েছে যেমন: ডেনড্রাইটিক সেল, ম্যাক্রোফেজ ইত্যাদি।

টি সেলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে APC এর গুরুত্বপূর্ণ ২ টা কাজ হচ্ছে-

  • অ্যান্টিজেনের প্রোটিন কে পেপটাইডে পরিনত করা
  • পেপটাইড-এমএসসি কম্প্লেক্স (Peptide-MHC complex)  কে টি সেলের শনাক্তকরনের জন্যে উপস্থাপন করা

লিম্ফোসাইট দ্বারা অ্যান্টিজেনকে চিহ্নিত করা

অ্যান্টিজেন চিহ্নিত করার পর উদ্দীপ্ত B-কোষ এবং T-কোষগুলো সক্রিয় হয়ে দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটাতে শুরু করে, ফলে জিনগত সদৃশ কোষগুচ্ছ গড়ে ওঠে। এই পদ্ধতিকে ক্লোনাল এক্সপানশন (Clonal expansion) বলে। বিজ্ঞানীদের ধারনা, প্রত্যেক মানবদেহে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি লিম্ফোসাইট ক্লোন আছে।

কোষনির্ভর সাড়া

CD4+T-কোষ সক্রিয় হওয়ার পর কার্যকরী কোষে (effector cells) পরিণত হয়। সাধারনত এরা সাইটোকাইনস (cytokines) নিঃসরণের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। তারা বিভিন্ন ধরনের সাইটোকাইনস তৈরী করে যাদের বিভিন্ন রকমের কাজ রয়েছে। যেমন: ইন্টারলিউকিন-২(Interleukin-2) সক্রিয় লিম্ফোসাইট কে স্টিমুলেট (stimulate) করে তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

সক্রিয় CD8+ লিম্ফোসাইট সাইটোলাইটিক সেলে (CTLs) পরিণত হয় যারা সাইটোপ্লাজমে মাইক্রবস (microbs) সংক্রমিত কোষকে ধ্বংস করে।

অ্যান্টিবডি-নির্ভর সাড়া

 B-কোষ সক্রিয় হওয়ার পর প্লাজমা কোষে পরিণত হয় যা অ্যান্টিবডি সিক্রেট (secrete) করে। অ্যান্টিবডি তে নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং সাইট (antigen binding site) আছে। যা দ্বারা অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের সাথে বাইন্ড (bind) করে এবং অ্যান্টিজেনকে নিউট্রালাইজ করে দেয় যাতে তা আর ইনফেকশন তৈরী করতে না পারে।

ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরি

আমরা সবাই নিশ্চয় শুনেছি একবার হাম হলে পরে আর হয় না কিংবা একবার যার বসন্ত হয় সাধারনত দ্বিতীয়বার হয় না! কেনো হয় না?

এই প্রশ্নের উত্তর ই হচ্ছে স্মৃতিকোষ (মেমোরি সেল) । অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সক্রিয় হওয়া লিম্ফোসাইটগুলো মেমেরি সেলও তৈরী করে। এরা আমাদের দেহে অনেক বছর, এমনকি যুগের পর যুগ থেকে যায়!

একারনেই দ্বিতীয়বার একই জীবাণু দ্বারা আমাদের দেহে আক্রমণ হলে এই মেমোরি সেলগুলো দ্রুত তাদের চিনে ফেলে এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।

যার ফলে ঐ জীবাণু সাধারণত আমাদের আর তেমন ক্ষতি করতে পারে না।


জুবাইরা জাফরিন

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি

মাওলানা ভাসানী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি

রেফারেন্স:

1.https://www.pdfdrive.com/immunology-kuby-5-edition-janis-kuby-e136524046.html 

2. https://www.amazon.com/gp/aw/d/0323479782/ref=dp_ob_neva_mobile 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button