Food and Nutrition

পোকামাকড়: খাদ্যবর্জ্য হ্রাসের সমাধান

খাদ্যবর্জ্য হল এমন খাবার যা খাওয়া হয় না। বেশিরভাগই মনে করেন যে, আপনি যখন কোন খাবার শেষ করেন না তাই খাদ্য বর্জ্য। কিন্তু বাস্তবে এটি বিশ্বের মোট খাদ্য বর্জ্যের মাত্র ২০%। বাকি ৮০% আসে খাদ্য তৈরির কারখানা থেকে, যেখানে দৈনিক কয়েক টন খাদ্য বর্জ্য উৎপাদিত হয় এবং এই খাদ্য বর্জ্য আমরা কখনই খেতে পারব না, আমাদের ফেলতেই হবে। একে বলা হয়, অদৃশ্য খাদ্য বর্জ্য।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যার উপর কৃষিক্ষেত্রের প্রভাবের একটি প্রধান অংশ খাদ্য বর্জ্য। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ২০১৪ সালে অনুমান করেছিল যে, খাদ্য বর্জ্য প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক ব্যয় ২ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি করছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী ৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী। এফএওর এর তথ্য অনুযায়ী,পৃথিবীর সমস্ত কৃষিজমির প্রায় ৩০ শতাংশ (১.৪ বিলিয়ন হেক্টর) অভক্ষিত খাবারের জন্য ব্যবহৃত হয়। খাদ্য বর্জ্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী নীল জলের পদচিহ্ন  ২৫০ কিমি, যা ভলগা বা ৩ বার জেনেভা লেকের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয় তার সমান। বলাই বাহুল্য, খাদ্য বর্জ্য আমাদের জীবনের জন্য এখন হুমকি স্বরূপ।

কিন্তু এই সমস্যার সমাধান হতে পারে পোকামাকড়। জ্বী হ্যাঁ। পোকামাকড় হতে পারে খাদ্য বর্জ্যের সমাধান। কেননা একটি ছোট ঘরে কয়েক মিলিয়ন পোকামাকড় রাখা সম্ভব এবং পোকামাকড় সবসময়ই ক্ষুধার্ত থাকে, এজন্য এসব পোকা এক মাসে ৭ টনের মত খাদ্য বর্জ্য খেতে পারে। 

এখানেই শেষ নয়, পোকামাকড়ের প্রতিটি অংশ ব্যবহারযোগ্য। এসব খাদ্য বর্জ্য খেয়ে পোকামাকড় বড় হয়ে চিটোসান নামক কেমিক্যাল তৈরি করে, যা মানুষের জন্য উপকারী। চিটোসান কৃষিক্ষেত্র থেকে শুরু করে ঔষধ শিল্পসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন- ত্বকের যত্নের পণ্য কিংবা ওষুধ প্যাকেজিং/ প্রক্রিয়াকরণে এটি ব্যবহার করা হয়। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে ১ সপ্তাহ পর এসব পোকামাকড় প্রাকৃতিকভাবে মারা যাবে এবং তা মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হল চক্রাকার অর্থনীতির একটি অনন্য উদাহরণ। 

এটি খাদ্য বর্জ্য হ্রাসের এক অন্যতম সমাধান হতে পারে। এইসব পোকার খামার টেকসই ও ছোট। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, কোন কিছুই আসলে অপচয় করার জন্য নয়। পরিবেশের সবকিছুর প্রত্যেকের উপকার আসতে পারে। এভাবে পুরো জৈবিক ব্যবস্থাকে অর্থবহ উপায়ে পুনরুৎপাদন করা যেতে পারে।


ফারহা আনিকা 

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যসূত্রঃ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button