Animal scienceFeature

হাতিদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসার সময় এখনই

বিশাল এই পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি বসবাস করে অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী। এদের নিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের বাস্তুসমাজ ও পরিবেশ। প্রকৃতির বিরূপ আবহাওয়ার শিকার হয়ে অসংখ্য প্রানীর অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তির পথে যার মধ্যে হাতি উল্লেখযোগ্য।    

সভ্যতার উত্থান-পতনের এক জ্বলন্ত সাক্ষী হাতি। আজ থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে আগমণ ঘটে, ডাঙার সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী এই প্রানীটির। এরপর থেকে যুগে যুগে কয়েকশ প্রজাতি পার হয়ে বর্তমানে মাত্র ২টি প্রজাতির হাতিই পাওয়া যায় সারা পৃথিবীতে, যার একটি অফ্রিকান হাতি এবং অপরটি এশিয়ান হাতি। আফ্রিকান হাতির সংখ্যাই তুলনামূলক পরিমাণে বেশি এবং আফ্রিকা মহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এদের চলাচল।  

হাতি শান্তিপ্রিয় প্রানী এবং দলবদ্ধ হয়ে চলাচল করে। অপেক্ষাকৃত বড় জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এরা থাকে । তাই এদের বসবাসের জন্য বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রয়োজন হয়। গড়ে একটি হাতি প্রায় ১৮ ঘন্টা খাদ্যগ্রহণ করে এবং একদিনে প্রায় ১০০ পাউন্ড পাতা খায়। কিন্তু বর্তমানে নগরায়ণের মাধ্যমে বনভূমি ধ্বংসের ফলে  হাতির বিচরণের জায়গা কমে যাওয়ায় প্রায়ই খাদ্য সংগ্রহের জন্য হাতি জঙ্গল ত্যাগ করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং মানুষের সাথে হাতিদের সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়শই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। আর অধিকাংশ সংঘর্ষের পরিণতি হয় হাতির করুণ মৃত্যু। 

হাতি আমাদের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাতিরা শক্তকাঠবিশিষ্ট গাছগুলোর বীজ স্থানান্তরে সাহায্য করে যার ফলে এই সকল গাছ প্রচুর পরিমাণে জন্মায়। এছাড়াও হাতি মাটির উর্বরতা এবং মাটিতে বিদ্যমান পুষ্টির পরিমাণের তারতম্য নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। এভাবেই আমাদের অজান্তেই হাতিরা পরিবেশ রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত।  

এরপরও মানুষের পরিবেশ ধ্বংসের নির্মম বাস্তবতার শিকার হাতিরা। বিশেষ করে হাতির দাঁতের অনেক মূল্য থাকায় হাতি নিধণের নিষ্ঠুর খেলায় মেতে ওঠে কিছু অসাধুচক্র। 

বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রন আইন অনুযায়ী যেকোন প্রানীর বাসভবনে যাওয়া বা ওদের কোনরকমে অসুবিধায় ফেলা দন্ডনীয় অপরাধ হলেও সেই আইন মানতে কেওই বাধ্য নেই। ফলে হাতি-মানুষের বিরোধের খবর প্রায়ই চলে আসে খবরের শিরোনামে।

 বাংলাদেশের মত একটি দেশে যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি মারাত্নক আকার নিয়েছে সেখানে হাতিদের অস্তিত্ব ধারণ হয়ে পড়েছে আরো কষ্টকর। বনাঞ্চল কেটে মানুষ বসতবাড়ি বানাচ্ছে,সেইসাথে  বিনষ্ট করছে হাতির বিচরণভূমি। রোহিঙাদের আগমণ এবং বেপোরয়াভাবে কক্সবাজার অঞ্চলে তাদের নগরায়ণ সেখানকার বন্য হাতিদের জীবনে নিয়ে এসেছে চরম বিভীষিকা। 

এভাবে চলতে থাকলে শীঘ্রই আমাদের দেশ থেকে একসময় হাতি বিলুপ্ত হয়ে পড়বে আমাদের অজান্তেই। তাই আমাদের এখন থেকেই এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে এবং সরকারিভাবে বন্যহাতি সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বন্যপ্রানী হত্যা এবং তাদের সাথে অন্যায় অবিচারের জন্য যে আইন বাস্তবায়নে সোচ্চার হতে হবে  এবং দোষীদের যথাযথভাবে শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। 

মনে রাখতে হবে, এই পৃথিবী শুধু আমাদের একার নয়। বিচরণকারী প্রত্যেকটি প্রাণীর এখানে সমান অধিকার রয়েছে। তাই তাদের অস্তিত্ব যদি আমরা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করে তাদের বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেই তাইলে আমাদের অস্তিত্বও একদিন ধ্বংসের মুখে পড়বে।   


আশিক উল্ল্যাহ

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনলজি 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১১০০

Refference:

1. https://worldelephantday.org/news/2020/08/elephants-uncertain-outlook2. https://www.worldwildlife.org/species/elephant

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button