Women and Children

ডিজমেনোরিয়া মেয়েদের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ!

অধিকাংশ নারীদের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে তলপেটে ব্যথা বা কষ্টদায়ক অনুভূতি হয়ে থাকে। তবে, এ ব্যথা সামান্য থেকে তীব্র যে কোন মাত্রায় হতে পারে। সাধারণত এটি অল্প বয়সেই হয়ে থাকে। ব্যথা যদি তীব্র হয় এবং অনেকক্ষণ ধরে চলতে থাকে তখন একে ডিজমেনোরিয়া বলা হয়। যাদের ডিজমেনোরিয়ার বেশি ঝুঁকি রয়েছে-

  • ১৮-২৪ বছরের তরুণীরা এতে বেশি ভোগেন
  • ২০ বছর কম বয়সীদের
  • ১১ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সীদের
  • পিরিয়ডে যাদের অতিরিক্ত রক্তপাত হয়
  • যারা কোন সন্তান জন্ম দেয়নি।।

সাধারণত পিরিয়ডের শুরুর দিকে এই ব্যথা দেখা যায় না। দু-এক বছর পর যখন ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গমন ঘটে তখন ব্যথাটা বাড়তে থাকে। গর্ভধারণ ও প্রসবের পর এই ব্যথা আপনা আপনি চলে যায়। গর্ভধারণ ও প্রসবের মাধ্যমে জরায়ু পরিপক্বতা লাভ করে এবং এরপর ডিজমেনোরিয়া আর হয় না। পিরিয়ডের শুরুর আগে এ ব্যথা হয় এবং প্রথম দিন পর আর থাকেনা। তলপেটে ও কোমরেও ব্যথা হতে পারে এবং উরু বা থাইরয়েডের ভেতরের অংশেও ব্যাথা হয়। অধিকাংশ মহিলাদের পিরিয়ডের পূর্বে এবং পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে ব্যথা করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা এন্ডোমেট্রিওসিস, জন্মগত ত্রুটি, পলিপ এবং জরায়ুর টিউমারের কারণে হয়। ডিজমেনোরিয়া দু’ধরনের হয়ে থাকে-

  • প্রাইমারি ডিজমেনোরিয়া 
  • সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়া 

সাধারণত পিরিয়ডের মূল কারণ হচ্ছে জরায়ু বা গর্ভাশয় এর সংকোচন। পিরিয়ডের সময় যদি এগুলো বেশি সংকুচিত হয় তাহলে এটি আশে-পাশের রক্তনালীগুলোকে চাপ দেয়। এটি সাময়িকভাবে জরায়ুতে অক্সিজেন সরবরাহে বাঁধা সৃষ্টি করে। মূলত, অক্সিজেনের অভাবে ব্যথা হয়। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের চাঞ্চল্য এবং বাড়তি মানসিক চাপ। জরায়ুর অস্বাভাবিক গঠন এবং জরায়ুর মুখ সরু হওয়ার জন্য পিরিয়ডের রক্ত ঠিকমতো বের হতে না পারলে জরায়ু পেশীর প্রবল সংকোচনে পেটে ব্যথা হয়। জরায়ুর এন্ডোট্রিয়ামে অতিরিক্ত পরিমাণ প্রোজেস্টোরণ হরমোন এবং প্রোস্টাগ্লান্ডিন নিঃসরণ এবং যেসব মেয়ের শারীরিক গঠন দুর্বল ও স্পর্শকাতর এবং আবেগি তাদের এই ধরনের ব্যথা বেশি হতে দেখা যায়। 

লক্ষণ- 

  • বমি-বমি ভাব
  • অস্বস্তি 
  • পেটে চাপা ব্যথা ও মাঝে মাঝে তীব্র ব্যথা
  • পেটে চাপ অনুভূতি 
  • কোমর এবং উরুর ভেতরে ব্যথা 
  • পাতলা পায়খানা 
  • খাওয়ায় অরুচি 

চিকিৎসা – এটির অন্যতম চিকিৎসা হলো নিজের শরীর সুস্থ রাখা। ওজন কম বা ভগ্ন স্বাস্থ্য হলে পুষ্টিকর খাবার এবং পরিমিত বিশ্রাম নিতে হবে। অল্পবয়সী মেয়ে হলে তাকে ধৈর্য ধরতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত প্যাড বা কাপড় ব্যবহার করতে হবে।নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। হাল্কা কাজকর্ম বা হাঁটাহাঁটি করলে ব্যথা খানিকটা কমে যায়। অবহেলা না করে কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।


আফিয়া ইমরাদ তাহাসিন

ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি চিটাগং 

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট 

Reference –

  1. Dysmenorrhea and Associated Factors among Polish Women: A Cross-Sectional Study

https://link.researcher-app.com/n7BT – via Researcher (@ResearcherApp)

  1. http://www.sasthabangla.com/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8B%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%A8-%E0%A6%AC/
  1. Effect of Exercise on Pain and Qulity of Life on People in Primary Dysmenorrhea Complaints https://link.researcher-app.com/71yu – via Researcher (@ResearcherApp)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button