Biotechnology

ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং- বহু সমস্যার সমাধান।

পুরো বিশ্বে প্রত্যেক মানুষেরই ডিএনএ গঠন ভিন্ন হয়ে থাকে। এই ভিন্নতার জন্যই প্রত্যেকে প্রত্যেকের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। মানুষের শারীরিক গঠন, স্বভাব চরিত্র হতে শুরু করে বিভিন্ন বংশগত রোগ সবকিছুই মানুষের ডিএনএ গঠনের উপর নির্ভর করে এবং পর্যায়ক্রমে তা পরবর্তী প্রজন্মগুলোতে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে।

ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিংকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা আবিষ্কার বলা হয়ে থাকে। অপরাধী শনাক্তকরণে এটি আবিষ্কারের সূচনা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অপরাধী শনাক্তকরণ ছাড়াও ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

মূলত ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং হলো মানুষের ডিএনএ এর বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করার একটি প্রক্রিয়া। আধুনিক পরিভাষায় একে ডিএনএ প্রোফাইলিং বলা হয়ে থাকে। ১৯৮৪ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার অ্যালেক জেফ্রেস এই প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করেন জিনের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে না এমন কিছু ডিএনএ জিনের মধ্যে পুনরাবৃত্তি হয় যা মিনিস্যাটেলাইট নামে পরিচিত। পরবর্তীতে জেফ্রেস দ্বারা স্বীকৃতি পায় যে প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা আলাদা মিনিস্যাটেলাইটের নমুনা থাকে যা মানুষকে একে অপরের থেকে পৃথক করে তোলে।

ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং এর ব্যবহারঃ 

১. ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফরেনসিক বিজ্ঞানে। সাধারণত অপরাধ ঘটেছে এমন স্থান হতে ডিএনএ এর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারপর সন্দেহভাজন ব্যাক্তির রক্ত, চুল বা লালা সংগ্রহ করে সেখান থেকে ডিএনএ আলাদা করে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। খুন, ধর্ষণ এর মত অপরাধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করা হয়। 

২. ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং বেওয়ারিশ লাশ শনাক্তকরণেও ব্যবহৃত হয়। 

৩. যেকোনো বিতর্কিত বাচ্চা বা শিশুর আসল পিতা শনাক্তকরণেও এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। 

৪. সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর বিভিন্ন বংশগত রোগ যেমন সিস্টিক ফিব্রোসিস, হিমোফিলিয়া, আলজাইমার, থ্যালাসেমিয়াসহ আরও অনেক রোগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৫. এইডস রোগ শনাক্তকরণেও এটি ব্যবহৃত হয়। 

৬. এছাড়াও আজকাল অফিস, বাসাবাড়ির দরজার লক, মোবাইল ফোনের লকে ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অসুবিধাসমূহঃ

ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং প্রযুক্তির অসংখ্য সুবিধা থাকলেও এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। মানুষের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা মানে তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া। কারণ এই নমুনা ব্যবহার করে যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরণের অপরাধ ঘটানো সম্ভব। এর ফলে মানুষ বিনা দোষে অনেক বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এছাড়াও এটি মানবাধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নৈতিকতার অবক্ষয়ের পৃথিবীতে এই ধরণের প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। 

তবে সব ধরণের সমস্যা পিছনে ফেলে যদি এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় তাহলে ডিএনএ ফিংগারপ্রিন্টিং অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।


সাদী আহমেদ

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যসূত্রঃ

https://microbenotes.com/dna-fingerprinting-principle-methods-applications/

https://www.britannica.com/science/DNA-fingerprinting

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button