Environment

বৈশ্বিক উষ্ণতা কতটা প্রভাব ফেলছে মানুষের আচরণের উপর?

মাইমুন নাহার

বিজ্ঞানীরা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চরম তাপ মোকাবিলায় মানুষের অসুবিধাগুলো নথিবদ্ধ করেছেন এবং তা মানুষের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলছে তার উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। যেমন:

সমাজ মনোবিজ্ঞানী ক্রেইগ অ্যান্ডারসন এবং তার সহকর্মীরা একটি পরীক্ষা করেছিলেন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের নিয়ে,  তারা ৪ দম্পতির ভিন্ন ভিন্ন ৪ টি ভিডিও ক্লিপ শিক্ষার্থীদের দেখতে দিয়েছিলেন এবং সেই ভিডিও ক্লিপগুলোর মধ্যে একটিতে দম্পতিদের আচরণ  ছিল সাধারণ আর বাকি গুলোতে ক্রমান্বয়ে রূঢ়।  আর শিক্ষার্থীদের এই ভিডিও ক্লিপগুলো দেখতে দেয়া হয়েছিল মোট ৫ টি ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে,  যেগুলোর তাপমাত্রা যাথাক্রমে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। 

ভিডিও দেখা শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে রূঢ় আচরণ এর উপর নম্বর দিতে বলা হয়েছিল এবং তখন অ্যান্ডারসন লক্ষ্য করলেন যে অপেক্ষাকৃত উচ্চ তাপমাত্রার কক্ষের শিক্ষার্থীরা সব দম্পতির আচরণই রূঢ় বলে নম্বর দিচ্ছে কম তাপমাত্রায় থাকা কক্ষের শিক্ষার্থীদের তুলনায়, এমনকি যে ভিডিও নিরপেক্ষ ও সাধারণ আচরণের ছিল সেটিকেও। 

অ্যান্ডারসন বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা মানুষের মেজাজকে খিটখিটে করে তোলে আর তখন সাধারণ ঘটনা বা পরিস্থিতিতেও ব্যক্তি অস্বস্তি বোধ করে আর তার রেগে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। 

আবার মিসিসিপি কারাগারের বন্দিদের উপর ২০০৪-২০১০ সাল পর্যন্ত এক গবেষণা চালানো হয়, যাদেরকে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে (যেমর: চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি) বন্দি করা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে যে জুন এবং জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ঘটেছে ও অপরাধী ধরা পড়েছে যখন কিনা তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে,  এই গবেষণা মতে তাপমাত্রা যত বেশি হয় মানুষের মাঝে অপরাধ করার প্রবণতাও বেড়ে যায় অর্থাৎ নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

তাপমাত্রা কর্মদক্ষতা: 

অতিরিক্ত তাপ মানুষের কর্মক্ষমতাকে হ্রাস করে থাকে।  যেমন: 

ইউসিএলএ নিউইয়র্ক এর একজন অর্থনীতিবিদ পার্ক নিউইয়র্ক এর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর একটি পরীক্ষা করেন। তিনি ১৯৯৯-২০১১ সাল পর্যন্ত  প্রায় ১ মিলিয়ন শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৪.৫  মিলিয়ন পরীক্ষার নম্বর নিয়ে গবেষণা করেছেন। 

তিনি গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন যে, ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দিনে  নেয়া পরীক্ষাতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ১০ শতাংশ কম নম্বর পায়৷ আবার ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দিনে পরীক্ষা দিলে ঐ সকল শিক্ষার্থীই ১০ শতাংশ নম্বর বেশি পায়। 

এই থেকে পার্ক এবং তার সহকর্মীরা উপলব্ধি  করতে পেরেছেন যে কিভাবে উচ্চ তাপমাত্রা শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা হ্রাস করে বা প্রভাবিত করে। পরবর্তীতে এই পরীক্ষাটি আরও কয়েকটি স্থানে করা হয়েছিল এবং আগের মতই ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। 

পরিশেষে, এই ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রার জন্য আমরাই দায়ী, সঠিক সময়ে পরিবর্তন না আনলে বিলুপ্ত হতে পারি আমি আপনি, আমরা সবাই। 

তথ্যসূত্র: How extreme heat from climate change distorts human behavior 

মাইমুন নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বায়ো ডেইলি 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button