Lifestyle

দেহ ঘড়ির ছন্দে বিঘ্ন ঘটলে হারিয়ে যাবে আপনার মেজাজ

মোঃ আশিক মোস্তফা

ঘড়ির মত মানবদেহও পরিচালিত হয় একটি সুস্পষ্ট ছন্দে। । দিনে জেগে থাকা এবং রাতে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ। এই ছন্দকেই বলা হচ্ছে দেহঘড়ি, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ সার্কেডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm)। এটি স্লিপ-ওয়াক সাইকেল (Sleep-Wake Cycle) নামেও পরিচিত। 

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সার্কেডিয়ান রিদম এবং বায়োলজিক্যাল ক্লক একই বিষয় নয়। সার্কেডিয়ান রিদম বায়োলজিক্যাল ক্লকের একটি প্রভাব মাত্র। 

সার্কেডিয়ান রিদম হলো মানবদেহের শারীরিক-মানসিক ও আচরণিক পরিবর্ত্‌ যা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় আবর্তিত হয়। মূলত এটি আলো এবং অন্ধকার দ্বারা প্রভাবিত । পাশাপাশি বিভিন্ন হরমোন, বিপাক প্রক্রিয়া, তাপমাত্রা প্রভৃতি ফ্যাক্টরও সার্কেডিয়ান  রিদমে ভূমিকা রাখে। 19015_Liveli_CircadianRhythm_Blog_1024x1024.png

মানব মস্তিষ্কের কোষগুলো আলো এবং অন্ধকারে ভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। চোখ আলো বা অন্ধকার ধারণ করে যে সিগন্যাল মস্তিষ্কে পাঠায়, তার ওপর ভিত্তি করে মস্তিষ্কের কোষ দেহের অন্যান্য অংশে সংকেত প্রেরণ  করে। এভাবেই ঘুম-জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রিত হয়। 

কোষ ছাড়াও বিভিন্ন হরমোন মেলাটোনিন, কর্টিসল সার্কেডিয়ান রিদমে ভূমিকা রাখে। মেলাটোনিন হরমোন রাতে বেশি নিঃসৃত হয় এবং ঘুমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কর্টিসল হরমোন দিনের আলোতে বেশি নিঃসৃত হয়ে মস্তিষ্ককে জেগে উঠতে সহায়তা করে।

তবে যদি সার্কেডিয়ান রিদম বন্ধ হয়ে যায়, অর্থাৎ ঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে শরীরে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সিগন্যাল ঠিক ভাবে কাজ না করায় প্রথমতই ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। যেমনঃ ইচ্ছে সত্বেও ঘুম থেকে সহজে উঠতে না পারা, হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে সহজে ঘুম না আসা প্রভৃতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সার্কেডিয়ান রিদম এর নিয়ন্ত্রণ হারালে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন সার্কেডিয়ান রিদম স্লিপ ওয়াক ডিসঅর্ডার (Circadian Rhythm Sleep Wake Disorder)।

  • শিফট ওয়ার্ক ডিসঅর্ডার (Shift Work Disorder) 
  • জেট ল্যাগ ডিসঅর্ডার (Jet Lag Disorder)
  • এডভান্স স্লিপ ফেজ ডিসঅর্ডার (Advance Sleep Phase Disorder)  
  • ডিলেইড স্লিপ ফেজ ডিসঅর্ডার (Delayed Sleep Phase Disorder) 
  • নন-টুয়েন্টি ফোর আওয়ার স্লিপ ওয়াক ডিসঅর্ডার (Non 24 Hour Sleep Wake Disorder)
  • ইরেগুলার স্লিপ ওয়াক রিদম ডিসঅর্ডার (Irregular Sleep Wake Rhythm Disorder) 

গবেষণায় দেখা গেছে সার্কেডিয়ান রিদম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে ডায়াবেটিস সহ মানসিক অবস্থারও অবনতি হতে পারে। উদাহরণ স্বরুপ অল্পতে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বিষণ্নতা, একাকিত্ব, অসুখী মনোভাব প্রভৃতি। এছাড়া দেহের বিভিন্ন অং্‌ যেম – কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম (Cardiovascular System) , মেটাবলিজম (Metabolism) , গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল সিস্টেম  (Gastrointestinal System), স্কিন (Skin) প্রভৃতির উপর দীর্ঘ মেয়াদী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

তবে চাইলেই খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় সার্কেডিয়ান রিদম চক্রটি। 

  • নিদিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং তা সর্বদা বজায় রাখা।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে শারীরিক পরিশ্রম করা (কোনো কাজ না থাকলেও ব্যায়াম করা)।
  • অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় সেবন থেকে বিরত থাকা।
  • ঘুমানোর সময় ঘরে আলোর স্বল্পতা নিশ্চিত করা।
  • সম্ভব হলে বিকালে স্বল্প সময় ঘুমিয়ে নেওয়া।

সার্কেডিয়ান রিদম প্রাকৃতিক ভাবে ঘুম জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণ করে শারীরিকভাবে আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।তাই সার্বিক সুস্থতা অর্জনে সার্কেডিয়ান রিদম  নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সঠিক সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার অভ্যাস করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

রেফারেন্সঃ

মোঃ আশিক মোস্তফা 

বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং 

প্রথম বর্ষ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button