Medical Science

কোমর ব্যথা কোন রোগ নাকি বার্ধক্যজনিত প্রভাব?

আফিয়া ইমরাদ তাহাসিন

বর্তমানে কোমর ব্যথা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” পদ্ধতিতে সবাই অভ্যস্ত আর নিজের কাজের জন্য সবাইকে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে হচ্ছে দীর্ঘক্ষণ, যার ফলে বেড়ে যাচ্ছে কোমর ব্যথার সমস্যা।

পৃথিবীতে খুব কম মানুষই আছেন যারা জীবনে একবারও কোমর ব্যথা অনুভব করেননি। মেরুদণ্ডের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থি বা ডিস্কের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলে এ ব্যথার সুত্রপাত হয়। তরুণাস্থির এই পরিবর্তনের সাথে সাথে মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সংবেদনশীলতার পরিবর্তন হয়। সাধারণত এ পরিবর্তন ৩০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগের উপসর্গও বাড়তে থাকে।

কোমর ব্যাথার কারণ :-

সাধারণত দেখা যায় মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যাথা হয়ে থাকে। চলাফেরা, খুব বেশি ভার বা ওজন তোলা, মেরুদণ্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাড়িয়ে কোন কাজ করা, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া, সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে এ ব্যাথা দেখা যায়।

অন্যান্য কিছু কারণও রয়েছে তার মধ্যে বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্র্যাটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওফরেসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলাইটিস, মেরুদণ্ডের স্নায়ুবিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসে সমস্যা,বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

যাদের বয়স চল্লিশের বেশি  তাদের মধ্যে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বশি কোমরের ব্যথায় আক্রান্ত হন।

কোমর ব্যথার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম এবং ফিজিওথেরাপির যেমন বিকল্প নেই।  তেমনি  খাবারের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় । কিছু খাবার খেলে প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) বাড়ে ফলে ব্যথাও বেড়ে যায়, আবার কিছু খাবার খেলে প্রদাহ  (ইনফ্লামেশন) কমে ফলে ব্যথাও কমে যায়। এক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত।

ভিটামিন সি বা ক্যালসিয়ামের অভাবেও কোমর ব্যথা হয়ে থাকে। অ্যালোভেরা শুধু ত্বক বা চুলের জন্য নয় কোমর ব্যথা উপশমেও সাহায্য করে। অ্যালোভেরা শরবত খেলে কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় খাদ্য যেমন দুধ, ঘি, চিজ, ফল, শাকসবজি, বাদাম ইত্যাদি খেলে কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যার কারণে অনেক সময় কোমর ও হাঁটুর ব্যাথা হয়। সেক্ষেত্রে  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনুযায়ী ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা করিয়ে নিন।


আফিয়া ইমরাদ তাহাসিন

নিজস্ব প্রতিবেদক,

বায়ো ডেইলি।

তথ্যসূত্রঃ https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/back-pain/diagnosis-treatment/drc-20369911

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button