Microbiology

ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন কি অটিজম চিকিৎসার কার্যকরী উপায় হতে পারে?

গাট মাইক্রোবায়োম বা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম হলো মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্রে বসবাসকারী ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া,আর্কিয়া,ফানজি ইত্যাদি এবং তাদের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল। আমাদের শরীরে এই গাট মাইক্রোবিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ রয়েছে। এরা শরীরের মিনারেল,নিউট্রিয়েন্ট গুলো শোষন করতে সাহায্য করে, বিভিন্ন ধরনের এনজাইম, ভিটামিন,এমিনো এসিড, শর্ট চেইন ফ্যাটি এসিড তৈরিতে সহায়তা করে।একইসাথে এরা এপিথেলিয়াল কোষগুলোকে এনার্জি সরবরাহ করে থাকে কিছু বাইপ্রোডাক্ট তৈরি করার মাধ্যমে, এমনকি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে পর্যন্ত সহায়তা করে থাকে ক্ষতিকারক ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের মাধ্যমে। এভাবেই গাট মাইক্রোবায়োম আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম,মেটাবলিজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এছাড়াও, গাট মাইক্রোবায়োম সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্রেইন প্রসেস কে প্রভাবিত করতে পারে।যার কারণে গাট মাইক্রোবায়োমের স্বাভাবিক অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ই হতে পারে মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের প্রভাবক।তেমনি একটি  মস্তিষ্কজনিত রোগ হলো অটিজম  যার ফলে রোগীর সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে বুঝনক্ষমতার ঘাটতির মতো অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। এ ধরনের রোগীরা মানুষের সাথে মিশতে জানেনা, দূরত্ব বজায় রাখতে চায়,তাদের নিজেদের একটা আলাদা জগৎ থাকে এবং সাধারণ বুদ্ধিমত্তার প্রবল ঘাটতিও দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে।

গবেষকরা অটিজম রোগীদের সাথে সুস্থ মানুষের গাট মাইক্রোবায়োমের বেশ কিছুটা পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন।অটিজম রোগীদের গাট মাইক্রোবায়োম যে মেটাবোলাইটস এবং নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি করে সেগুলো ইমিউন সিস্টেম এবং সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের ওপর ভিন্নরকম প্রভাব ফেলে যার ফলে তা শরীরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অটিজম রোগীদের গাট মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তিত অবস্থার কারণে তাদের ডায়রিয়া, কোষ্টকাঠিন্য,অসম্ভব পেটে ব্যথা, ইত্যাদি দেখা যায়। এগুলোর পাশাপাশি অটিজম রোগীদের নার্ভাস সিস্টেমকেও মারাত্নকভাবে প্রভাবিত করে গাট মাইক্রোবায়োম।

এ সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু কিছু গবেষক ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন বা মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সফার থেরাপি কাজে লাগিয়ে অটিজম রোগের লক্ষণগুলি বা সমস্যাগুলি কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।

ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন এর জন্য প্রথমে ২ সপ্তাহের জন্য এন্টিবায়োটিকস দেয়া হয় রোগীকে। তারপর অন্ত্রের ভেতরটা পরিষ্কার করার পর  শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। ট্রান্সপ্লান্টেশন ৭ থেকে ৮ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে।এরিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষনা টীম ১৮ টি অটিজম আক্রান্ত বাচ্চাদের উপর ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন এর প্রভাব দেখতে একটি গবেষনা চালান। তারা দেখতে পান থেরাপি শেষ হওয়ার পর আস্তে আস্তে রোগীদের ব্যবহারে পরিবর্তন আসে এবং তাদের পেটের পীড়াজনিত সমস্যাগুলোও কমতে থাকে। এর প্রায় ২ বছর পর তারা আরো পর্যবেক্ষণ করেন যে এসব বাচ্চাদের মধ্যে অটিজমের সাধারণ লক্ষণগুলিও উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে।

অটিজমের কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন হতে পারে উল্লেখযোগ্য একটি থেরাপি যা অটিজম রোগীদের  রোগের মাত্রা কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।


আয়েশা আক্তার

বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ,নোবিপ্রবি।

হেড অব কন্টেন্ট ক্রিয়েশন,বায়ো ডেইলি।


তথ্যসূত্রঃ

  • https://www.autismspeaks.org/expert-opinion/gut-reaction-science-fecal-transplants-autism-not-there-yet
  • https://www.nature.com/articles/s41598-019-42183-0
  • https://www.frontiersin.org/articles/10.3389/fnins.2020.578666/full
  • https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC7350540/
  • https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3564498/

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button