Medical ScienceNews

মানুষের হাতে বাড়তি ধমনী!

মানুষের হাতে একটি অতিরিক্ত ধমনীর উপস্থিতি লক্ষ করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হাতে রেডিয়াল ও আলনার ধমনীর মাঝামাঝি সক্রিয় মেডিয়ান ধমনীর উপস্থিতি গত এক শতাব্দীতে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ফ্লিনডারস বিশ্ববিদ্যালয় এবং এডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের এর একদল গবেষকের গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। গত ২০২০ সালের ৪ মে Journal of Anatomy জার্নালে গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়। 

উনিশ শতকের বিজ্ঞানীরাও এই ধমনীর কথা জানতেন এবং এর উপস্থিতির হার নিয়ে গবেষণা করেছেন। মেডিয়ান ধমনী ভ্রূণাবস্থায় বিকশিত হয়ে হাতের সম্মুখ অংশে রক্ত সরবরাহ করে। ভ্রূণের বয়স ৮ সপ্তাহ হলে এই ধমনী তার কাজের ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং এই দায়িত্ব দুই পাশের রেডিয়াল এবং আলনার ধমনি নিয়ে নেয়। অনেক সময় জন্মের পরও এই মেডিয়ান ধমনী কাজ করতে থাকে। 

উনিশ শতকের নব্বইয়ের দশকে করা গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা যায়, পূর্ণ বয়স্ক মানুষে মেডিয়ান ধমনীর উপস্থিতি ছিল ১০%, বিংশ শতাব্দীর শেষে সেটা ৩০% হয়ে গেছে। এত অল্প সময়ে এতখানি পরিবর্তনের বিশাল তাৎপর্য আছে স্বীকার করছেন বিজ্ঞানীরা। 

এডিলেড বিশ্ববিদ্যালের গবেষকেরা ৮০ টি মৃতদেহের হাতের গঠন পর্যবেক্ষণ করেছেন। মৃতদেহগুলো ছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের। গবেষকেরা মেডিয়ান ধমনীর গঠন, এর কার্যক্ষমতা ইত্যাদি পর্যালোচনা করে বর্তমান সময়ের সাথে তুলনা করে দেখেছেন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হাতে রক্ত সরবরাহ করে এমন সক্রিয় মেডিয়ান ধমনীর উপস্থিতি বর্তমানে তিন গুণ বেশি। অর্থাৎ মানুষ এখনো বিবর্তিত হচ্ছে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে কর্মক্ষম মেডিয়ান ধমনী যাদের আছে তারাই প্রকৃতিতে বেশি টিকে যাচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে একবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের মেডিয়ান ধমনী সক্রিয় দেখা যাবে।

এরকম পরিবর্তনের কারণ হতে পারে মেডিয়ান ধমনীর সাথে সম্পৃক্ত কোনো জিনের মিউটেশন, কিংবা গর্ভাবস্থায় মায়ের শারিরীক কোনো সমস্যা, কিংবা উভয়টিই। তবে সক্রিয় মেডিয়ান ধমনীর একটা সমস্যার সম্ভাবনাও রয়েছে। এটি হাতের কার্পাল টানেল সিনড্রোম নামের একটি স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

মানুষের এরকম ছোট বিবর্তেনর ঘটনা কিন্তু আরো আছে। পায়ের গোড়ালিতে অবস্থিত ফ্যাবেলা নামের ছোট্ট অস্থির উপস্থিতিও বর্তমান মানুষের মাঝে একশ বছর আগের চাইতে তিনগুণ বেশি।


নিবির রহমান

জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

তথ্য সূত্রঃ https://onlinelibrary.wiley.com/doi/epdf/10.1111/joa.13224 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button