আজ আপনাদের এক অবাঞ্ছিত অতিথির কথা বলব। কফি, চকলেট,জুস আমরা প্রায় প্রতিদিনই খেয়ে থাকি। কিন্তু এদের সম্পর্কে কিছু অপ্রীতিকর গোপন তথ্য জানলে হয়ত আপনাদের এসবের প্রতি আকর্ষন এবং ক্ষুধা দুটোই কমে যাবে।

আপনি নিশ্চয়ই আপনার খাদ্যতালিকায় পোকামাকড় অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী হবেন না। কিন্তু যদি বলি আপনি প্রাত্যাহিক আহারে তা ইতিমধ্যেই গ্রহন করছেন। কি! অবাক হচ্ছেন? বিস্ময়কর মনে হলেও,এটাই সত্যি।

টেরো, পেনসিলভেনিয়া ভিত্তিক কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠানের বিবৃতি মতে, বছরে একজন মানুষ গড়ে প্রায় ১,৪০,০০০ পতঙ্গ ভক্ষন করে। যদিও এই সংখ্যাটি দেখে আপনি অবাক হবেন, কিন্তু এটাই স্বাভাবিক। 

এমনকি মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন(এফডিএ) নিরাপদ মাত্রায় খাদ্যে পতঙ্গের অংশাবশেষ উপস্থিতি অনুমোদন দিয়েছে। উদাহরণসরূপ উৎপাদন সুবিদার্থে ১০০ গ্রাম চকলেটে ৬০ টি অতিক্ষুদ্রাকার কীটের উপস্থিতি অনুমোদিত। কেননা চকলেটের উৎপাদন বহুল বিস্তৃত, ফলে সম্পূর্ণ রূপে পোকামাকড় দমন অসম্ভব। এছাড়াও ২৫০ মিলি ফলের জুসে ৫টি শূককীট, ২২৫ গ্রাম নুডুলস বা ম্যাকারনি জাতীয় খাদ্যে ২২৫ টি, ১০০ গ্রাম পিনাট বাটারে ৩০ টি, ২৫ গ্রাম ভুট্টা জাতীয় খাদ্যে ২৫ টি, ১০০ গ্রাম টমেটো সসে ৩০ টি, কফির বীজের শতকরা ১০ ভাগ কীট  এবং কোকোয়া বীজে পশুপাখির লোম ও মলমূত্রের উপস্থিতি স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হয়। মূলত  এটি অনিবার্য ত্রুটিপূর্ণ খাদ্য আইন নামে পরিচিত যা আমাদের সমস্ত জীবনের অংশ।

আপনি হয়ত খাওয়ার সময় পোকামাকড়ের কোনো অস্তিত্ব অনুধাবনই করতে পারবেন না; কিন্তু  পর্যবেক্ষনে পতঙ্গের শূককীট, মূককীট, গুবরে পোকা, শুয়োঁপোকা, তেলাপোকার দেহাবশেষ ঐসব খাবারে পাওয়া গেছে।

অসস্তিকর মনে হচ্ছে? তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এর মধ্যে কোনটিও মানবদেহের জন্য হানিকর নয়। অনেক দেশের মানুষ এসব কীটপতঙ্গ স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে গ্রহন করে থাকে; কারন গবেষণায় দেখা গেছে এগুলো অতি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আমিষ, স্নেহ, আয়রন ও ক্যালসিয়াম। 

এধরণের অদ্ভুত খাদ্য নীতি থেকে এটুকু নিশ্চিত, প্রাত্যাহিক জীবনে কি গ্রহন করছি তা সম্পর্কে আমরা অজ্ঞাত। বলা বাহুল্য, কীটপতঙ্গই হয়তো আমাদের খাদ্যের ভবিষ্যত সুতরাং  এর সাথে  অভ্যস্ততা গড়ে তোলাই আমাদের জন্য শ্রেয়।

 

ফারহা আনিকা 

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

 

তথ্যসূত্র:

Previous articleব্যথাহীন অসহায় জীবন
Next articleGut Microbe Analysis: A Game Changer

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here