Microbiology

ফ্যাগোসাইটস্ এবং ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytes and Phagocytosis)

ফ্যাগোসাইটোসিস মানে কোষভক্ষণ প্রক্রিয়া।জীববিজ্ঞানের খুবই পরিচিত একটি শব্দ,  ইমিউনোলজির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইমিউনতন্ত্রের প্রধান কাজ সমন্বিত ও কার্যকর ফ্যাগোসাইটোসিস চালু রাখা।

আজ আলোচনা করা যাক ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া এবং এই কাজে নিয়োজিত কোষ(ফ্যাগোসাইটস্) নিয়ে।

ফ্যাগোসাইটস্(Phagocytes)

যেসকল কোষ ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাদের ফ্যাগোসাইটস্ বলে। ম্যাক্রোফেজ এবং নিউট্রোফিল প্রধান দুই ধরনের ফ্যাগোসাইটস্। তাছাড়া ডেনড্রাইটিক সেল(dendritic cells), মনোসাইট(monocyte) এবং মাস্ট সেলও পেশাগত ফ্যাগোসাইটস্ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

মনোসাইটস্ ও ম্যাক্রোফেজেস্(Monocytes and Macrophages)

মনোসাইট হচ্ছে একধরনের শ্বেতরক্তকণিকা। পরিনত মনোসাইটকে ম্যাক্রোফেজ বলে।

ম্যাক্রোফেজ দেহে প্রবেশকারী বিজাতীয় পদার্থের(foreign substance) প্রতি ইমিউন সাড়াদানে মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। তখন মনোসাইটগুলো ম্যাক্রোফেজে পরিনত হয়।ইমিউনতন্ত্রের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে শক্তিশালী ফ্যাগোসাইটস্ হিসেবে কাজ করে। তখন একেকটি ম্যাক্রোফেজ ১০০ টির মতো ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করতে পারে। ম্যাক্রোফেজ এসব পদার্থ গ্রহন ও পরিপাক শেষে অপাচ্য অংশ বহিষ্করণের পরও কয়েক মাস সক্রিয় থাকে।

নিউট্রোফিল (Neutrophils)

নিউট্রোফিলও একধরনের শ্বেতরক্তকণিকা। এরা বহিরাগত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা যেকোনো আনুবীক্ষনিক প্রোটিন কনা গ্রাস করে নেয়। এরা ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে বড় পদার্থ গ্রাস করতে পারে না।একটি নিউট্রোফিল ৩-২০ টি ব্যাকটেরিয়া  গ্রাস করতে পারে। এরপর সেটি নিজেই নিষ্ক্রিয় হয়ে মৃত্যুবরণ করে।

ডেনডাইট্রিক সেল এবং মাস্ট সেল (Dendritic cells and mast cells)

এই দুই ধরনের কোষ সাধারনত অ্যান্টিজেন উপস্থাপন করে (Antigen Presenting Cells)। এরা রোগজীবানু ভক্ষণ (engulf) করতেও সাহায্য করে থাকে।

ফ্যাগোসাইটোসিস(Phagocytosis)

যে প্রক্রিয়ায় শ্বেতরক্তকণিকা দেহরক্ষার অংশ হিসেবে ক্ষণপদ সৃষ্টি করে দেহে অনুপ্রবেশকারী জীবানু ও অন্যান্য বহিরাগত কনা গ্রাস করে এবং এনজাইমের সাহায্যে ধ্বংস করে তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে।

ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কিছু নির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো নিম্নে বর্ননা করা হলো:

ফ্যাগোসাইটের সক্রিয় হওয়া এবং অনুজীব চিহ্নিত করা(Activation of phagocytes and recognition of microbes)

 জীবাণু সংক্রমনের ফলে প্রদাহস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত রক্তকনিকা, টিস্যু বা রক্তজমাট থেকে উৎপন্ন  হিস্টামিন, প্রোস্টাগ্লান্ডিনস ইত্যাদি রাসায়নিকে উদ্দীপ্ত হয়ে ফ্যাগোসাইটগুলো কৈশিকনালীর প্রাচীর ভেদ করে ক্ষতস্থানে অভিযাত্রী হয়।

নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজের কিছু রিসেপ্টর থাকে যা নির্দিষ্টভাবে জীবানু চিহ্নিত করতে পারে।এভাবে ফ্যাগোসাইটস নির্দিষ্টভাবে (specifically) জীবানু গ্রাস করে।এসকল রিসেপ্টর ফ্যাগোসাইটোসিসের ম্যাকানিজমের সাথে যুক্ত। উদাহরণস্বরূপ :প্যাটার্ন রিকগনিশন রিসেপ্টর (pattern recognition receptor) যেমন C-টাইপ ল্যাক্টিন(C-type lactin) এবং স্ক্যাভেঞ্জার রিসেপ্টর (scavenger receptor)।

তাছাড়া ফ্যাগোসাইটে আরেকধরনের রিসেপ্টর আছে যা বিভিন্ন রকম হোস্ট প্রোটিনকে(host protein) চিহ্নিত করে, এসব প্রোটিন জীবানুকে কোট(coat) করে।

এধরনের প্রোটিনকে অপসোনিন (Opsonin) বলে আর ফ্যাগোসাইটোসিসের এই পদ্ধতিকে অপসোনাইজেশন বলে।।

অনুজীব ভক্ষণ(Ingestion)

অনুজীব চিহ্নিত করার পর ক্ষণপদ সৃষ্টি করে ফ্যাগোসাইটস্ অনুজীব ভক্ষণ করে এবং মাত্র ০.০১ সেকেন্ডে একটি ব্যাকটেরিয়াম ভক্ষণ করতে পারে।

 ফ্যাগোজোম সৃষ্টি (Formation of Phagosome)

 ফ্যাগোসাইটস্ ক্ষণপদ বের করে ব্যাকটেরিয়া কে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এবং মাঝখানে সৃষ্ট গহ্বরে আবদ্ধ করে। দুইদিক থেকে আসা ক্ষণপদের অগ্রভাগ মিলিত হয়ে যে থলিকা সৃষ্টি করে তাকে ফ্যাগোজোম বলে।ফ্যাগোসাইটের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বিভিন্ন সংকোচনশীল তন্তু ফ্যাগোজোমের চতুর্দিক ঘিরে রাখে। এসব তন্তুর সংকোচনে ফ্যাগোসাইটের ঝিল্লী থেকে ফ্যাগোজোম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাইটোপ্লাজমের অভ্যন্তরে ঝিল্লীবেষ্টিত থলিকার মতো চালিত হয়।

ফ্যাগোলাইসোজোম সৃষ্টি(formation of phagolysosome)

 ফ্যাগোজোম ব্যাকটেরিয়াসহ সাইটোপ্লাজমেরর অভ্যন্তরে পরিযায়ী হয়। এ সময় সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত লাইসোজোম ও অন্যান্য সাইটোপ্লাজমিক দানা ফ্যাগোজোমের ঝিল্লীর সঙ্গে একীভূত হয়। লাইসোজোম থেকে বিভিন্নরকম এনজাইম ফ্যাগোজোমে ক্ষরিত হয়। তখন ফ্যাগোজোম কে ফ্যাগোলাইসোজোম বলে।

ব্যাকটেরিয়ার(অনুজীবের) আন্তঃকোষীয় মরণ ও পাচন(Intracellular killing of bacteria and digestion of microbes)

 সক্রিয় নিউট্রোফিল এবং ম্যাক্রোফেজ ফ্যাগোলাইসোজোমের ভেতর বিভিন্নরকম প্রোটিওলাইটিক এনজাইম (proteolytic enzymes) উৎপাদন করে জীবানু ধ্বংস করে। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম হচ্ছে ইলাস্টেজ (elastase)যা বিভিন্নরকম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে থাকে।

সক্রিয় ফ্যাগেসাইটস্ মলিকুলার অক্সিজেন কে রিএক্টিভ অক্সিজেন স্পিসিস (reactive oxygen species /ROS) পরিনত করে যারা জীবানু ধ্বংস করতে পারে।

ROS এর সাথে ম্যাক্রোফেজ রিএক্টিভ নাইট্রোজেন ইন্টারমিডিয়েট, প্রধানত নাইট্রিক অক্সাইড (NO) ও তৈরী করে যা জীবাণু ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এভাবে ফ্যাগোসাইটস্ বিভিন্নরকম এনজাইম দ্বারা জীবানু ধ্বংস করে ডাইজেস্ট (digest) করে থাকে।তাছাড়া বিভিন্নরকম সাইটোকাইনস(cytokines)ও ফ্যাগোসাইটোসিসে সাহায্য করে থাকে।

নিউট্রোফিল এবং ম্যাক্রোফেজ যখন সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় হয়ে শক্তিশালী হয়,তখন তারা লাইসোজোমাল এনজাইম, ROS এবং NO নিঃসরণেরর মাধ্যমে স্বাভাবিক হোস্ট টিস্যুকেও আঘাত করে।যার কারনে টিস্যু ইনজুরির সৃষ্টি হয়।


জুবাইরা জাফরিন

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি

মাওলানা ভাসানী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি

রেফারেন্স:

https://www.pdfdrive.com/immunology-kuby-5-edition-janis-kuby-e136524046.html

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Phagocyte

https://teachmephysiology.com/immune-system/innate-immune-system/phagocytosis/

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button